ইরান-ইরাক বিচারিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার

ইরান ও ইরাকের মধ্যে আইন ও বিচার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই। একই সঙ্গে বাগদাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে তেহরানের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তেহরানে ইরাকের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান ফায়েক জিদানের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন এজেই। উচ্চপর্যায়ের একটি বিচারিক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে জিদান ইরান সফর করছেন।

এজেই বলেন, বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক ও চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বিচারিক ও আইনগত সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। ইরানের বিচার বিভাগ ইরাককে আরও সহায়তা ও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

দুই দেশের ধর্মীয় পবিত্র স্থানগুলোতে সারা বছর যাতায়াতকারী ইরানি ও ইরাকি তীর্থযাত্রীদের চলাচল সহজ করতে বিশেষ বিচারিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন এজেই।

ইরানি ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ইরাকের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও আইন ও বিচার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রসঙ্গে এজেই বলেন, ইরান ও ইরাকের নিরাপত্তা পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তাই দুই দেশের অভিন্ন সীমান্ত কিংবা বিদেশি কোনো পক্ষ থেকে আসা নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

বৈঠকে ফায়েক জিদান বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের পর ইরাক সরকার ও জনগণ ইরানের পাশে রয়েছে। ২০০৩ সালের পরের কঠিন সময় এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইসহ বিভিন্ন সংকটে ইরানের দেওয়া সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন তিনি।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের’ও নিন্দা জানান জিদান। একই সঙ্গে ইরান ও ইরাকের মধ্যে হওয়া বিচারিক চুক্তিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, কৌশলগত সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই দেশের অভিন্ন বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই এই সহযোগিতা গড়ে উঠেছে।