ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেও চলমান যুদ্ধ নিয়ে দেশটির অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহামাদ এলমাসরি। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
এলমাসরির মতে, নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। তবে এর মাধ্যমে তেহরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করা কঠিন। কারণ, ইরান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কৌশল তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, ইরানিরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশ সৃজনশীল এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার নানা পথ তাদের জানা রয়েছে। ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞার চাপও দেশটি কোনো না কোনোভাবে সামলে নিতে পারবে বলে ধারণা করা যায়।
ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে চীনের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক। তাঁর ভাষ্য, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র যে চাপ দিচ্ছে, চীন তা পুরোপুরি মেনে চলবে না এমন ইঙ্গিত ইতোমধ্যে দিয়েছে।
এলমাসরি আরও বলেন, মার্কিন আগ্রাসনের কারণে ইরানের জনগণের একটি অংশ বরং সরকারের পাশে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেও সরকারের আত্মসমর্পণের সম্ভাবনা কম।
তাঁর মতে, অর্থনৈতিক যুদ্ধের বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে কার্যত স্বীকার করে নেওয়া হচ্ছে যে সামরিক পদক্ষেপ প্রত্যাশিত ফল আনতে পারেনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক সমাধান হয়তো বাস্তবসম্মত বিকল্প নয়।