‘শত্রু’ গণমাধ্যমকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফাজল শেখারচি ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচিত গণমাধ্যমগুলোকে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার দাবি, বিবিসি, ইরান ইন্টারন্যাশনাল ও রেডিও ফারদা ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং অন্যান্য ‘শত্রু গোয়েন্দা সংস্থার’ সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। শেখারচি বলেন, ইরানের দৃষ্টিতে এসব প্রতিষ্ঠান প্রচলিত অর্থে গণমাধ্যম নয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরাও সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ইরানি এই সামরিক মুখপাত্রের অভিযোগ, কথিত এসব ‘ভুয়া গণমাধ্যম’ বিশ্বজুড়ে সহিংসতার প্রচার, বিজ্ঞাপন ও বিস্তারে ভূমিকা রাখছে এবং মানুষের মানসিক সুস্থতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

শেখারচির এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন যুদ্ধের মধ্যে ইরানে বিদেশি গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টে আলোচনাধীন একটি প্রস্তাবে বিদেশি গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রাখার কথা উঠে এসেছে।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো নিয়ে তেহরানের এমন হুমকি নতুন নয়। এর আগে ইরান ইন্টারন্যাশনালকে দেশটির কর্তৃপক্ষ ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল এবং এর সঙ্গে সহযোগিতাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনার কথা জানিয়েছিল।

তবে শেখারচির সর্বশেষ বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের কর্মীদেরও সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হওয়ায় তা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুদ্ধের আবহে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে এমন বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। সূত্র: ডন