ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নীতিকে নিছক প্রহসন বলে কটাক্ষ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তার অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে গিয়ে ওয়াশিংটনের নেওয়া পদক্ষেপগুলো এখন হাস্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক তৎপরতার সমালোচনা করে বাঘাই এসব মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি দেশের দিকে ফিরেছে, যার সঙ্গে ইরানের কার্যত উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক লেনদেনই নেই, নিজেদের কথিত জোট যে কার্যকর, তা প্রমাণ করার জন্য। একই সঙ্গে বহু বছর ধরেই কার্যত স্থবির হয়ে থাকা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া ও একাডেমিক বিনিময়ও ওয়াশিংটন বন্ধ করার পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাঘাইর ভাষায়, আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা বিষয়গুলোর ওপর আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে, আর সেই শূন্যতাকেই জোট হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট নামে নতুন দফার নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন।
ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের বৈশ্বিক আর্থিক নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যতে গৌণ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে লেনদেনে জড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছে ওয়াশিংটন। এসব প্রতিষ্ঠানকে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হবে। অন্যথায় তাদের মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে ঠেলে দেওয়ার হুমকি রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বাঘাইর মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে তেহরান অর্থনৈতিক চাপ হিসেবে দেখছে এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলছে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি