মার্কিন সামরিক সক্ষমতা ভাঙতে চায় ইরান: বিশ্লেষক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কেউই আপাতত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরতে চাইছে না। তবে দুই দেশের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সামরিক সংঘর্ষ ও উত্তেজনা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা ও নীতি বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্টাই।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সামনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে উত্তপ্ত ও শীতল, দুই ধরনের পর্যায়ই দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ কখনো সামরিক উত্তেজনা বাড়বে, আবার কখনো পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসতে পারে।

পুস্টাইয়ের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কার্যকর চাপের হাতিয়ার সামরিক শক্তি নয়; বরং অর্থনৈতিক চাপ ও সামুদ্রিক অবরোধ। মার্কিন সামরিক বাহিনী মূলত এই অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলেও মনে করেন তিনি।

তার দাবি, ইরানের ওপর সামুদ্রিক অবরোধের কারণে দেশটির প্রতিদিন ২৫ কোটি ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান প্রতিদিন ১৫ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করত। দেশটির রাজস্ব আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল এই তেল রপ্তানি।

সামুদ্রিক অবরোধের পাশাপাশি কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়ছে বলে মনে করেন পুস্টাই। তার মতে, এর ফলে তেহরানের জন্য সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার অর্থনৈতিক ব্যয়ও ক্রমাগত বাড়ছে।

তবে ইরানের কৌশল কেবল সামরিক ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক। তার মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ও রাজনৈতিক ইচ্ছাকে দুর্বল করাও তেহরানের অন্যতম লক্ষ্য। এ কারণেই ইরান সময়ে সময়ে সংঘাতের মাত্রা বাড়ানোর পথে যেতে পারে।

পুস্টাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জাহাজে হামলা কিংবা সমুদ্রপথে মাইন পেতে রাখার মতো পদক্ষেপ সেই কৌশলের অংশ হতে পারে। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইতে পারে তেহরান।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংঘাত সরাসরি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ না নিলেও সামুদ্রিক নিরাপত্তা, তেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় তেল সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তবে পুস্টাইয়ের এই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ; ইরানের ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপ বা হামলার বিষয়ে এটি কোনো সরকারি ঘোষণা নয়। সংঘাতের পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক চাপ এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর।