মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ ইরানের একটি অত্যন্ত আনন্দমুখর বিয়ের অনুষ্ঠানে চালানো মার্কিন সামরিক বাহিনীর পাশবিক বিমান হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও এক ধাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির অত্যন্ত সাম্প্রতিক একটি বিশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই ন্যক্কারজনক ও বর্বরোচিত হামলায় ঘটনাস্থলে এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারানো মানুষের মোট সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের পরিবেশিত খবর ও স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রের বরাতে জানা যায় যে, হোরমোজগান ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল সায়েন্সেসের প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন ওই বিমান হামলায় অত্যন্ত গুরুতর ও মারাত্মক জখম নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করা মাত্র ২২ বছর বয়সী এক তরুণী অবশেষে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আজ চিরতরে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েছেন।
এর আগের বিগত দিনগুলোতেও এই ভয়াবহ ও নৃশংস সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হওয়া বেশ কয়েকজন অসহায় বেসামরিক নাগরিক দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন, যার ফলে এই হতাহতের মর্মান্তিক সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
উল্লেখ্য যে, বর্তমানের এই জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানের একটি সম্পূর্ণ সাধারণ বেসামরিক লোকজনের আনন্দঘন বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত এই সুনির্দিষ্ট বিমান হামলার ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে এবং তেহরানের পক্ষ থেকে এই অহেতুক ও বেআইনি সামরিক আগ্রাসনের অত্যন্ত কড়া ভাষায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সূত্র: ডন