হামাস কমান্ডার নিহতের দাবি ইসরায়েলের

গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে বিমান হামলা চালিয়ে হামাসের অভিজাত নুখবা বাহিনীর এক কমান্ডারকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) খান ইউনিসে চালানো ওই হামলায় মুহাম্মদ মাহমুদ মারশাদ আল-কাদি নিহত হয়েছেন। তিনি হামাসের সামরিক শাখার নুখবা বাহিনীর একটি কোম্পানির কমান্ডার ছিলেন বলে দাবি করেছে আইডিএফ।

ইসরায়েলি বাহিনীর ভাষ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার সময় দক্ষিণ ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী সুফা সামরিক চৌকিতে হামাসের অনুপ্রবেশে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আল-কাদি। ওই সময় হামাস যোদ্ধাদের চৌকিতে প্রবেশের নেতৃত্বেও তিনি সরাসরি অংশ নেন বলে দাবি করেছে আইডিএফ।

আইডিএফ আরও বলেছে, গাজা যুদ্ধের সময় রাফাহ এলাকায় ইসরায়েলি জিম্মিদের আটকে রাখার সঙ্গেও আল-কাদি জড়িত ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে হামাসের যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ এবং সংগঠনটির সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টাতেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে দাবি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর।

ইসরায়েলের অভিযোগ, আল-কাদি ইসরায়েলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে নতুন হামলার প্রস্তুতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডকে আইডিএফ চলমান যুদ্ধবিরতির পদ্ধতিগত লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আল-কাদিকে লক্ষ্য করে হামলার উদ্দেশ্য ছিল তাঁর তৈরি করা হুমকি মোকাবিলা করা। দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের অধীনে গাজায় অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় অভিযান চালিয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে তারা।

খান ইউনিসে হামলার ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান পুরোপুরি থামেনি। ইসরায়েলের দাবি, হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন এবং সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতেই তারা সীমিত আকারে অভিযান চালাচ্ছে। অন্যদিকে হামাস এসব অভিযানকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করে আসছে।

আল-কাদির নিহত হওয়ার বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর নিহত হওয়ার খবর এবং তাঁর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।