যুদ্ধের সমীকরণ বদলে সংঘাতকে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে ইরান সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিয়ুমার্স হায়দারি। তার ভাষ্য, ইরানের শত্রুরা এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না।
হায়দারি বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রচলিত সমীকরণ বদলে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিসর পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। তার দাবি, এই পরিবর্তন শত্রুপক্ষের হিসাব-নিকাশকে বড় ধরনের চাপে ফেলেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে ইরানের এই কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেন হায়দারি। তিনি বলেন, অঞ্চলটির অন্যতম কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলার সক্ষমতা রাখে।
তার দাবি, নিজেদের কৌশলগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ইরান বিশ্বের অর্থনৈতিক সমীকরণেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পেরেছে। হরমুজকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও এর প্রভাব পড়ছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে প্রণালিটি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল মে মাসের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারেও চাপ তৈরি করেছে। সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়, যা সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের প্রতিফলন।
হায়দারির বক্তব্যে স্পষ্ট, তেহরান শুধু নিজ ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষার মধ্যে যুদ্ধকে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বরং হরমুজের মতো কৌশলগত স্থানের ওপর নিজেদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়েও চাপ তৈরির সক্ষমতা প্রদর্শন করতে চাইছে। বর্তমান সংঘাতে এই জলপথই এখন সামরিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক চাপের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সূত্র: ডন