সাবেক পেন্টাগন প্রধান লিওন পানেটা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়ায় ওয়াশিংটনের আরেকটি ব্যর্থ সামরিক আগ্রাসনে পরিণত হতে পারে। তার মতে, যুদ্ধের কোনো স্পষ্ট সমাপ্তি না থাকায় এবং পেন্টাগনের নেতৃত্ব কাঠামোয় অস্থিরতা চলতে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী এক সংঘাতে আটকে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
পানেটা বলেন, পেন্টাগন ও এর কমান্ড কাঠামোর অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। এর সঙ্গে ইরান যুদ্ধের অনিশ্চিত পরিণতি যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা পানেটা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
পানেটার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে এমন এক ভয়াবহ অচলাবস্থায় আটকে আছে, যেখান থেকে যুদ্ধ শেষ করার কার্যকর পথ খুবই সীমিত। ফলে সংঘাত দ্রুত শেষ না হলে এটি পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে পরিণত হতে পারে।
ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে পানেটা বলেন, ইরানের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি আরেকটি ব্যর্থ যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে। তার ধারণা, আগামী ছয় মাসেও এই যুদ্ধের কোনো সমাধান নাও হতে পারে।
তিনি বলেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার মতো খুব বেশি বিকল্প এখন ওয়াশিংটনের হাতে নেই। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা নিয়ে শুধু প্রতিপক্ষের মধ্যেই নয়, মিত্রদের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা যুদ্ধ পরিচালনার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সতর্ক করেন পানেটা। তার মতে, নেতৃত্ব কাঠামোর সংকট এবং যুদ্ধের অনিশ্চিত পরিণতি একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে।
পানেটার আশঙ্কা অনুযায়ী, কূটনৈতিক সমাধান না এলে ইরান যুদ্ধ আরও ছয় মাস বা তারও বেশি সময় চলতে পারে। সে ক্ষেত্রে পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক হস্তক্ষেপের তালিকায় ইরানও আরেকটি ব্যর্থ অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সূত্র: ডন
১৩০ কোটি ডলারের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারালো যুক্তরাষ্ট্র
আত্মরক্ষার অধিকার থেকেই মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা: বাঘাই
যুক্তরাষ্ট্রের ভরসায় বসে থাকলে চলবে না: কাতার