৫০০ কিলোমিটার দূরে মার্কিন রণতরীতে ইরানের হামলা

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেবি দাবি করেছেন, ইরানের উপকূল থেকে অন্তত ৪০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে সব মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি ইরানি বাহিনী উপকূল থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করা একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীতে আঘাত হেনেছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তেহরানে দেওয়া বক্তব্যে মোহেবি ইরানের নৌ সক্ষমতা তুলে ধরে বলেন, নতুন অস্ত্র ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক পরিস্থিতি এখন তেহরানের অনুকূলে বদলে গেছে। ইরান অননুমোদিত জাহাজ চলাচল ঠেকানোর পাশাপাশি শত্রুপক্ষের নৌ অস্ত্র ব্যবস্থাকেও প্রতিহত করার সক্ষমতা প্রদর্শন করছে বলে দাবি করেন তিনি।

মোহেবির ভাষ্য, রমজান অভিযান শুরুর আগে পারস্য উপসাগরে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ছিল। কিন্তু বর্তমানে ওই অঞ্চলে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজও নেই। সব মার্কিন নৌযান ইরানের উপকূল থেকে অন্তত ৪০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইরানের এই প্রত্যাহারের পেছনে নতুন অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেন বিপ্লবী গার্ডের এই মুখপাত্র। তার মতে, ইরানি বাহিনী ৪০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ৫০০ কিলোমিটার দূরে থাকা একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

হরমুজ প্রণালিকে ইরানের সামরিক শক্তির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে মোহেবি বলেন, বিদেশি আগ্রাসন ঠেকাতে এই অঞ্চলে তেহরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এদিকে ইরানের এক্সপেডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাইয়ের ঘোষিত নতুন সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা এলাকার বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন মোহেবি। তিনি জানান, প্রস্তাবিত এলাকাটি চাবাহারের কাছাকাছি অঞ্চল থেকে শুরু করে ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগরের কয়েকটি অংশ পেরিয়ে হরমুজ প্রণালির দিকে বিস্তৃত হবে। এর সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক পরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

মোহেবি বলেন, আগে ইরানের সামরিক তৎপরতা মূলত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন আরও বিস্তৃত একটি নিরাপত্তা অঞ্চল নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অঞ্চলে অনুমতি ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক বা সামরিক জাহাজ প্রবেশ করলে তাদের বিমা, আইনি সহায়তা ও অন্যান্য সহায়ক সেবা পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ওই জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সম্ভাব্য নৌ অবরোধ মোকাবিলার বিষয়েও কথা বলেন মোহেবি। তার দাবি, সামুদ্রিক অবরোধের পরিধি ওমান সাগর পেরিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিপ্লবী গার্ডের কিছু গোপন কৌশল রয়েছে, যা প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে।

মার্কিন বাহিনী শারীরিক ও সামরিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির মুখে রয়েছে বলেও দাবি করেন মোহেবি। তার দাবি, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের কাঠামোতে অতিরিক্ত ক্ষয় ও মরিচা ধরার কারণে মেরামত ও পুনরায় রং করার প্রয়োজন হয়েছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের কারণে জাহাজটির নাবিকদের মনোবলও কমে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

সবশেষে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি ও জনগণের ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মোহেবি বলেন, আধুনিক অস্ত্র ও কৌশলগত পরিকল্পনার কারণে আঞ্চলিক সামুদ্রিক পরিস্থিতি এখন ইরানের পক্ষে। যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা কোনো ভুল হিসাব করলে তেহরান তার জবাব দেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে বহিরাগত হুমকি মোকাবিলায় জনগণের ঐক্যকেই বিজয়ের প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন বিপ্লবী গার্ডের এই মুখপাত্র। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি