ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে কিছুক্ষণ পরই তা প্রত্যাহার করেছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় খামিস মুশাইত গভর্নরেটে দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করা হয়। পরে জানানো হয়, বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং এলাকায় ভিড় না করার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার আহ্বান জানানো হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৯৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
তবে ঠিক কী ধরনের বিপদের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। সতর্কতা প্রত্যাহারের পরও বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা এবং অপ্রয়োজনে জমায়েত ও ছবি তোলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
খামিস মুশাইত সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে অঞ্চলটি বিশেষ নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার হুথিরা দক্ষিণ সৌদি আরবের আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরান এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় বলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে। এসব হামলায় ৭৩ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে রিয়াদ। খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটিও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
পরদিনও হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকার কথা জানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর পরিপ্রেক্ষিতে খামিস মুশাইত ও আবহায় জারি করা জরুরি সতর্কতা পরে প্রত্যাহার করা হয়।
সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের তীব্রতা বাড়ায় পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের লড়াই এবং সৌদি ভূখণ্ডে পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এরই মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। হুথিদের হামলার জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। একই সময়ে বাব আল-মান্দাব ও লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে।
খামিস মুশাইতে দ্বিতীয়বার সতর্কতা জারি ও দ্রুত তা প্রত্যাহারের ঘটনায় নতুন কোনো হামলা হয়েছে কি না, কিংবা সতর্কতার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো সামরিক হুমকি ছিল কি না সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো তা স্পষ্ট করেনি।