পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে ইরানের সরে যাওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটিতে কোনো বিল জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন কমিটির দুই সদস্য।
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাবনাককে দেওয়া বক্তব্যে আইনপ্রণেতা ইসমাইল কাওসারি বলেন, এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব সম্পর্কে কমিটির সদস্যরা এখন পর্যন্ত ‘কিছুই শোনেননি’। আরেক সদস্য ওয়াহিদ আহমাদি বলেন, এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তা জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটিতে পর্যালোচনা করতে হবে।
এর আগে ইরানি আইনপ্রণেতা হোসেইন-আলি হাজি-দেলিগানি দাবি করেছিলেন, এনপিটি থেকে ইরানের প্রত্যাহারের জন্য তিন-স্তরীয় জরুরি প্রক্রিয়ায় একটি বিল প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এতে কয়েকজন সংসদ সদস্য স্বাক্ষর করেছেন।
তিনি একই সঙ্গে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা চালানোরও আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, দেশের নিরাপত্তার জন্য ইরানের ‘পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা’ প্রয়োজন।
তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির দুই সদস্যের বক্তব্যে আপাতত এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইরানি পার্লামেন্টে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার দাবির সঙ্গে অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।
এনপিটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি। এর আওতায় পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ, শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
এনপিটি থেকে প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপ নিলে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নতুন করে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটিতে কোনো প্রত্যাহার বিল জমা পড়েনি ইরানি আইনপ্রণেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে অন্তত সেটিই স্পষ্ট হয়েছে।