সামরিক হামলা, নাশকতা ও হত্যাকাণ্ড চালিয়েও ইরানের গভীরভাবে বিস্তৃত পরমাণু শিল্প ধ্বংস করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, কোনো চাপের মুখেই ইরান তার পরমাণু অধিকার থেকে সরে যাবে না।
কামালভান্দি বলেন, ইরানের পরমাণু জ্ঞান ও শিল্প গভীরভাবে প্রোথিত। সামরিক হামলা, নাশকতা কিংবা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এই শিল্পকে ধ্বংস করা সম্ভব নয়। বৈধ অধিকার ও শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মকাণ্ডের কাঠামোর মধ্যেই ইরান তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সম্মেলনে তিনি ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে হামলার বিষয়ে সংস্থাটির নীরবতার সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে সংস্থাটির মহাপরিচালকের রাজনৈতিক আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কামালভান্দির ভাষ্য, জাতিসংঘ সনদ, সংস্থাটির বিধি ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের ব্যবস্থাকে যখন লঙ্ঘন করা হচ্ছে, তখন রাষ্ট্রগুলোর নীরবতাকে নিরপেক্ষতার লক্ষণ বলা যায় না।
নিজ বক্তব্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ও তুলে ধরেন কামালভান্দি। তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাস ৮০ বছরের। অন্যদিকে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা প্রতিষ্ঠার ৫২ বছর হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিরও প্রথম দিককার সদস্যদের অন্যতম ইরান এবং দেশটি ধারাবাহিকভাবে তার পরমাণু কর্মকাণ্ডের শান্তিপূর্ণ চরিত্র বজায় রেখেছে।
কামালভান্দি বলেন, পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইরান ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে। তারপরও দেশটি আলোচনা চালিয়ে গেছে এবং যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন চুক্তির প্রতিশ্রুতি পালন করেছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রই ছিল ওই চুক্তির একমাত্র পক্ষ, যারা চুক্তি থেকে সরে যায়।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরও ইরান প্রায় দেড় বছর একতরফাভাবে নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে যায়। সে সময় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তৎকালীন মহাপরিচালকের পরপর ১৫টি প্রতিবেদনে ইরানের চুক্তি অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এরপরও ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যেগুলোকে এর সমর্থকেরা কঠোর নিষেধাজ্ঞা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
কামালভান্দি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রশাসন পরিবর্তনের পর ২০২২ সালে আলোচনা আবার শুরু হয়। যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনায় ফিরে যাওয়ার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন চুক্তিতে ফিরতে সমঝোতা সম্পন্ন করতে অস্বীকৃতি জানায়।
পরে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের অধীনে আবারও আলোচনা শুরু হয়। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় কারিগরি বিষয়গুলো পর্যালোচনার প্রস্তুতির সময় ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে বলে উল্লেখ করেন কামালভান্দি।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে সংস্থাটির ধারাবাহিক পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে কামালভান্দি প্রশ্ন করেন, এসব পরিদর্শনের কোনো একটিতে কি কখনও ইরানের মাধ্যমে পরমাণু উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল? সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি