প্রায় ৭০ বছরের পুরোনো ও প্রায় অচল হিসেবে বিবেচিত দুটি এফ-৫ যুদ্ধবিমান দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিতে আকস্মিক হামলা চালিয়ে বিপুলসংখ্যক মার্কিন হেলিকপ্টার ধ্বংসের দাবি করেছেন ইরানের বিমানবাহিনীর দুই পাইলট। তাদের দাবি, হামলার পর কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই ঘাঁটিতে ফিরে আসেন তারা।
সেক্রেড ডিফেন্স সপ্তাহ সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীর বিচারিক সংস্থার প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম আহমাদরেজা পুরখাগানের সঙ্গে এক বৈঠকে ওই অভিযানের বর্ণনা দেন পাইলটরা। বিচার বিভাগের প্রধানের প্রতিনিধিত্ব করে বৈঠকে অংশ নেন পুরখাগান।
পাইলটরা জানান, মিনাবের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ ইসলামি বিপ্লবের নেতার শাহাদাতের খবর পাওয়ার পর তারা শত্রুর ওপর বড় ধরনের হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিবেশী একটি দেশে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিতে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম মজুত থাকার তথ্য তাদের কাছে ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ১ মার্চ ভোরে প্রায় ৭০ বছরের পুরোনো দুটি এফ-৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে তাদের পাঠানো হয়।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শত্রুর নজর এড়াতে পুরো অভিযানে তাদের ৫০ ফুটেরও কম, অর্থাৎ প্রায় ১৮ মিটার উচ্চতায় উড়তে হয়েছে। পাইলটরা বলেন, দুই জাহাজের মাঝ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের যুদ্ধবিমানের চেয়েও জাহাজের ডেক উঁচু ছিল। এভাবে খুব নিচু দিয়ে উড়ে তারা সক্রিয় প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করেন এবং পুরো সময় বেতার নীরবতা বজায় রাখেন।
পাইলটদের দাবি, মার্কিন ঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর শত্রুপক্ষ তাদের হামলার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিল না। তারা বিমানঘাঁটির উড্ডয়ন এলাকায় থাকা হেলিকপ্টারগুলোতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেন এবং বিপুলসংখ্যক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেন। তাদের ভাষায়, প্রতিটি বোমার আঘাতে একের পর এক হেলিকপ্টার বিস্ফোরিত হচ্ছিল এবং কয়েক ডজন বোমার সমান ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছিল বলে তারা মনে করেন।
ইরানি পাইলটরা বলেন, মার্কিন পক্ষ মাত্র ১২টি হেলিকপ্টার ধ্বংসের কথা স্বীকার করলেও প্রকৃতপক্ষে ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজ ও হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। তাদের দাবি, হামলার পর তারা কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই ঘাঁটিতে ফিরে আসতে সক্ষম হন।
ফেরার পথে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান তাদের ধাওয়া করেছিল বলেও দাবি করেন তারা। এ সময় অন্য একটি দেশের ঘাঁটি থেকে ইরানে হামলার জন্য উড্ডয়ন করা তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানকে ওই এফ-১৬ এবং মিত্র প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলবশত লক্ষ্যবস্তু করে ভূপাতিত করে বলে দাবি করেন পাইলটরা।
পাইলটরা আরও দাবি করেন, মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় উন্নত, ভারী, নিখুঁত ও ব্যাপক ধ্বংসক্ষমতাসম্পন্ন বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য, মার্কিন বাহিনী প্রতিক্রিয়া জানানোর আগেই উন্নত হেলিকপ্টারগুলো হ্যাঙ্গারের ভেতর ধ্বংস হয়ে যায় এবং ঘাঁটিতে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়।
তাদের দাবি, মার্কিন অবকাঠামোয় এই অভিযানে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ হিসাবের পক্ষে তারা আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের একটি অনুমানের কথা উল্লেখ করেন। তবে প্রতিবেদনে ওই দাবিগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি
ইরাকে কুর্দিস্তানের ঘাঁটিতে ইরানের ফের ড্রোন হামলা
ইরান যুদ্ধে ৪ মাসে ৫২টি যুদ্ধবিমান-ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
কেশম দ্বীপে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের