রামাল্লায় আলজাজিরার সাবেক সাংবাদিক আলা আল-রিমাওয়ি গ্রেপ্তার

অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় সাবেক আলজাজিরা মুবাশের (Al Jazeera Mubasher) correspondent ও সাংবাদিক আলা হাসান আল-রিমাওয়িকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ভোরে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয় বলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা (WAFA)-র বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

আল-রিমাওয়িকে কোথায় নেওয়া হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাঁর গ্রেপ্তারের কারণ নিয়েও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এক বছরেরও কম সময়ে ফের আটক

আল-রিমাওয়ির সর্বশেষ গ্রেপ্তারের ঘটনা তাঁর ২০২৫ সালের মুক্তির এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ঘটল। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ) জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর তাঁকে আটক করা হয়েছিল এবং প্রায় দুই বছর প্রশাসনিক হেফাজতে থাকার পর ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর তিনি মুক্তি পান। ওই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার হয়নি বলে CPJ জানিয়েছে।

CPJ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তাঁকে আটক করার আগে ইসরায়েলি বাহিনী রামাল্লায় তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল। পরে তাঁকে প্রশাসনিক আটকাদেশের আওতায় রাখা হয়। তাঁর পরিবারের ধারণা ছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রকাশিত বক্তব্যের সঙ্গে ওই আটকাদেশের সম্পর্ক থাকতে পারে।

এর আগে ২০২১ সালের এপ্রিলেও রামাল্লায় নিজ বাড়ি থেকে আল-রিমাওয়িকে আটক করা হয়েছিল। সে সময় তিনি অনশন শুরু করেন এবং প্রায় এক মাস পর মুক্তি পান। CPJ-এর নথিতে বলা হয়েছে, তখনও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাঁর আটকের কারণ প্রকাশ করেনি।

ঋণ মওকুফের উদ্যোগ

সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকতার বাইরে আল-রিমাওয়ি ফিলিস্তিনিদের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় একটি সামাজিক উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। ‘তানাজুল লিল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ছেড়ে দেওয়া’ নামে পরিচিত এ উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল আর্থিক সংকটে থাকা ফিলিস্তিনিদের ঋণ মওকুফে উৎসাহিত করা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্যোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে ১২ মিলিয়নের বেশি ইসরায়েলি শেকেল সমপরিমাণ ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়। আপনার দেওয়া প্রতিবেদনে এ অঙ্ক প্রায় ১৫ মিলিয়ন শেকেল বা ৪৯ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে।

সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘদিন আটক

আল-রিমাওয়ি পশ্চিম তীরভিত্তিক জে-মিডিয়া (J-Media)-এর পরিচালক ও সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০২৩ সালে তাঁর আটকের আগে ইসরায়েলি বাহিনী জে-মিডিয়াকে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল বলে CPJ জানিয়েছে।

সাংবাদিক হিসেবে তাঁর আটকের ঘটনা আগেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিক অধিকার সংগঠনগুলোর নজরে এসেছে। ২০২১ সালের আটকের সময় রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (RSF) তাঁর মুক্তির দাবি জানিয়েছিল এবং জানিয়েছিল, তিনি প্রশাসনিক আটকাদেশের বিরুদ্ধে অনশন করেছিলেন।

২০২৫ সালের মুক্তির পর CPJ-কে দেওয়া বক্তব্যে আল-রিমাওয়ি কারাগারে দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর এসব অভিযোগ সম্পর্কে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও CPJ প্রকাশ করেছে; ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের আইন অনুযায়ী আটক রাখা হয় এবং অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের ব্যবস্থা রয়েছে।

সর্বশেষ আটকের ক্ষেত্রে আল-রিমাওয়ির পরিবারের বক্তব্য ও ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পাওয়া গেলেও, তাঁকে কেন আটক করা হয়েছে বা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে কি না—তা এখনো ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রকাশ্য বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিত নয়।