হুথিদের হামলা ‘অগ্রহণযোগ্য’, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হুমকি: ইইউ

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের হামলা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সৌদি আরব, বাহরাইন ও ওমানে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় হুথিদের হামলার নিন্দা জানায়।

ইইউ প্রতিনিধি দল জানায়, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে ইয়েমেনে সংঘাতের অবসান এবং আঞ্চলিক নৌপথে চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের বিষয়েও তাদের যোগাযোগ হয়েছে।

ইইউর ১৭ সেপ্টেম্বরের পৃথক এক বিবৃতিতেও হুথিদের সৌদি আরববিরোধী সামরিক অভিযান এবং হামলার কঠোর নিন্দা জানানো হয়। সেখানে বিশেষ করে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হুথিদের হামলার কারণে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাসও ১৫ সেপ্টেম্বর ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় এলাকায় হুথিদের প্রভাব বিস্তারের ফলে বাব আল-মান্দাব প্রণালি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং এর বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।

এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর ইইউ সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চরে হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছিল, ওই হামলায় ৭৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল ইইউ।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথে নিরাপদ ও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা নিয়ে ইইউ আগেও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সঙ্গে যৌথভাবে অবস্থান জানিয়েছে।

ইইউ ও জিসিসির জুলাইয়ের যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতার ওপর জোর দেওয়া হয় এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

বর্তমানে হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোর নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। একটি জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, অন্যটি ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ।

ইইউর বক্তব্যে তাই ইয়েমেনের সংঘাতকে শুধু স্থানীয় যুদ্ধ হিসেবে না দেখে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বৃহত্তর সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।