ইরান যুদ্ধের চাপ আমেরিকান পরিবারগুলো আর নিতে পারছে না

ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবার যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর কতটা পড়ছে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ভিসেন্তে গনজালেস। তাঁর দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর দক্ষিণ টেক্সাসের একটি গড় পরিবারকে শুধু অতিরিক্ত গ্যাসোলিনের পেছনেই প্রায় ৮০৩ ডলার বেশি খরচ করতে হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এক বক্তব্যে গনজালেস বলেন, যুদ্ধের কারণে শুধু মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে না, এর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে সাধারণ পরিবারগুলোর ওপর।

তিনি বলেন, আমেরিকানরা প্রাণ হারিয়েছে এবং দেশটির পরিবারগুলো আরেকটি ‘অন্তহীন যুদ্ধের’ খরচ বহন করতে পারে না। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা আরও বাড়ানো ঠেকাতে তিনি একটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলেও জানান।

গনজালেস প্রশ্ন তোলেন, একটি পরিবারের হাতে অতিরিক্ত ৮০৩ ডলার থাকলে তারা সেই অর্থ দিয়ে কী করতে পারত। তাঁর বক্তব্যে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে গাড়িনির্ভর দক্ষিণ টেক্সাসে গ্যাসোলিনের দাম বাড়ায় পরিবারগুলোর বাজেটে সরাসরি চাপ তৈরি হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসে নিয়মিত গ্যাসোলিনের গড় দাম সেপ্টেম্বরের শুরুতে গ্যালনপ্রতি ৩ দশমিক ৭২৫ ডলার থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের সপ্তাহে বেড়ে ৩ দশমিক ৯১২ ডলারে দাঁড়ায়।

যুদ্ধের কারণে বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের বিভিন্ন হিসাবও সামনে এসেছে। ইনস্টিটিউট অন ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইকোনমিক পলিসির ১৯ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবার, ব্যবসা ও স্থানীয় সরকারগুলো মোট প্রায় ৯৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত মোটর জ্বালানি ব্যয় করেছে। গড়ে প্রতি পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৭১৭ ডলার।

এর মধ্যে শুধু গ্যাসোলিন বাবদ অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার এবং ডিজেল বাবদ প্রায় ৩৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে অ্যাক্সিওস ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চলমান হিসাবের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে যুদ্ধের কারণে গ্যাসোলিন ও ডিজেলের বাড়তি দামে একটি গড় মার্কিন পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় ৭৬০ ডলারের বেশি হয়েছিল।

বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণেও পার্থক্য রয়েছে। তবে এসব হিসাবেই যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য চাপের চিত্র উঠে এসেছে।

জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানি কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ডিজেলের দাম বাড়লে পণ্য পরিবহন, কৃষি, নির্মাণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার খরচও বাড়তে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত খাদ্যসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দামেও পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

এপ্রিলের এক প্রতিবেদনে টেক্সাস ট্রিবিউন জানিয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর পর টেক্সাসে গ্যাসোলিনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। ডিজেলের বাড়তি দাম পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের ব্যয়ও বাড়িয়ে দিচ্ছিল।

এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সামরিক ব্যয়ও বেড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১৬ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের হিসাব উদ্ধৃত করে বলা হয়, ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। সংঘাতের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে প্রতি মাসে আরও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলেও হিসাব করা হয়েছে।

ফলে ওয়াশিংটনে যুদ্ধের সামরিক লক্ষ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি এর অর্থনৈতিক প্রভাবও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। গনজালেসের বক্তব্যে সেই বিতর্কেরই একটি দিক উঠে এসেছে যুদ্ধের সামরিক ব্যয়ের পাশাপাশি জ্বালানি ও জীবনযাত্রার বাড়তি খরচও শেষ পর্যন্ত সাধারণ মার্কিন পরিবারের ওপর চাপ তৈরি করছে।