ইরানে টানা পঞ্চমবার আইন কমিটির চেয়ারম্যান মোহসেনি-এজেই

ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি-এজেই দেশটির এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের আইন ও বিচার-বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে টানা পঞ্চম বছরের জন্য পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, কমিটির সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ উপস্থিতিতে বুধবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মোহসেনি-এজেইকে সর্বসম্মতিক্রমে আবারও এই পদে নির্বাচিত করা হয়।

এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল ইরানের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। পার্লামেন্ট ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের মধ্যে আইন নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে তা নিষ্পত্তিতে কাউন্সিলের ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা রয়েছে।

মোহসেনি-এজেই দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। ২০২১ সালের জুলাইয়ে তিনি বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং চলতি বছরের জুলাইয়ে তাকে আরও পাঁচ বছরের জন্য একই পদে পুনর্নিয়োগ করা হয়।

ইরানের সংবিধানের ১৫৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার বিভাগের প্রধানকে সর্বোচ্চ নেতা পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ দেন। বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে মোহসেনি-এজেই বিচারব্যবস্থার প্রশাসনিক কাঠামো, বিচারসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ এবং বিচারকদের নিয়োগ ও পদায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তার রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব শুধু বিচার বিভাগেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদেরও সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

মোহসেনি-এজেইয়ের পুনর্নিয়োগ ও এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের আইন ও বিচারবিষয়ক কমিটির নেতৃত্বে তার ধারাবাহিকতা ইরানের শীর্ষ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক ও নীতিগত ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত নথিতে মোহসেনি-এজেইকে ২০২১ সাল থেকে ইরানের প্রধান বিচারপতি এবং এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ইরানে বর্তমানে যুদ্ধ, নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানকে একই সঙ্গে লড়াই এবং উপযুক্ত সময়ে আলোচনা দুই পথই অনুসরণ করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিজ্ঞ শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্বে রাখার বিষয়টি ইরানের বর্তমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।