নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মোজতবা খামেনি'র বার্তা

জ্ঞান, বিশ্বাস ও নৈতিকতার সমন্বয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘লোহার ঢাল’ হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতা অর্জনের আহ্বান জানান।

মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইরানে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু উপলক্ষে এ বার্তা দেন মোজতবা খামেনি। এতে তিনি তরুণ প্রজন্মকে ইরানের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, আধিপত্যবাদী ব্যবস্থার নিষ্ঠুরতা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের মধ্যে জ্ঞান, ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত শক্তি একটি লোহার ঢাল এবং ধারালো তরবারির মতো কাজ করতে পারে।

তিনি শিক্ষার্থীদের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটানো সময় জ্ঞান বাড়ানো, ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন এবং পরিবার, সহপাঠী, নাগরিক ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানান।

ইরানের অগ্রগতিতে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জ্ঞানের সীমানা আরও বিস্তৃত করা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অগ্রগতি অর্জনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান সর্বোচ্চ নেতা।

শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, ফারসি ভাষা এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতীকগুলো সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মোজতবা খামেনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের স্মরণ করতে বলেন। নতুন শিক্ষাবর্ষে তাদের অনুপস্থিতি অনুভূত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ২৯৬ জন ইরানি শিক্ষার্থী এবং ৬৫ জনের বেশি শিক্ষক নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের প্রথম দিন মিনাবের শাজারে তাইয়্যেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো পরপর দুটি হামলায় ১৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অধ্যাপকদের অনুপস্থিতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুভূত হবে উল্লেখ করে মোজতবা খামেনি বলেন, এই শোক মানুষের চিন্তাকে ভালো ও মন্দ এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার লড়াইয়ের প্রকৃত বাস্তবতার দিকে নিয়ে যাবে।

শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের ভূমিকাও প্রশংসা করেন তিনি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলায় তাদের অবদানের আরও বেশি স্বীকৃতি পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।

শিক্ষকদের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথাও স্বীকার করেন মোজতবা খামেনি। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আগের প্রজন্মের যেসব শিক্ষার্থী ইরানকে রক্ষা করেছেন, তাদের বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি। নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের অভিনন্দন জানিয়ে বিজ্ঞান, শিক্ষা ও জাতীয় উন্নয়নে তরুণ প্রজন্মের আরও সাফল্য কামনা করেন সর্বোচ্চ নেতা। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি