গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন ও বেসামরিক প্রশাসন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা ঘোষণার দিনই গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও গুলিতে অন্তত ৭ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর এসেছে।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হন। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ ও গাজা সিটিতেও হামলায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ফলে একদিকে পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নের পরিকল্পনা এগোচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্নটি সামনে এনেছে যেখানে পুনর্গঠনের জন্য অর্থ ও প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেখানে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সেই পুনর্গঠন কতটা বাস্তবায়নযোগ্য?
বোর্ড অব স্পিস এর ছয় মাসের পরিকল্পনায় মোট ৬৬টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ ও সামাজিক সেবা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, ডিজিটাল ব্যবস্থা, আইনি কাঠামো এবং শান্তি ও নিরাপত্তা ছয়টি বড় ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনায় প্রায় এক বিলিয়ন ডলার অবকাঠামো খাতে ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার অস্থায়ী আশ্রয় বা আবাসনের জন্য, ২৭৫ মিলিয়ন ডলার ধ্বংসস্তূপ ও অবিস্ফোরিত অস্ত্র অপসারণে এবং ৫০ মিলিয়ন ডলার হাসপাতাল সংস্কারে ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। সড়ক মেরামতের জন্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের কথাও পরিকল্পনায় আছে।
এ ছাড়া সীমান্ত ক্রসিং সংস্কার, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার এবং ২৫ হাজার বহনযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ কিট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
অর্থাৎ এটি শুধু ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন পুনর্নির্মাণের প্রকল্প নয়। লক্ষ্য হচ্ছে গাজার বেসামরিক জীবনের ন্যূনতম অবকাঠামো পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনের ভিত্তি তৈরি করা।
গাজায় লাখ লাখ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তাঁবু, অস্থায়ী আশ্রয় কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস করছে। তাই নতুন আবাসন তৈরি করা পুনর্গঠনের অন্যতম তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার।
পরিকল্পনায় প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার ইনসুলেটেড ক্যারাভান বা অস্থায়ী আবাসনের জন্য রাখা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত রাফাহ এলাকায় একটি পরীক্ষামূলক ‘Emirati Neighborhood’ তৈরির অর্থায়ন করবে, যেখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তারও আগে প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে নতুন করে নির্মিত অবকাঠামো আবার হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।
এই কারণেই গাজার পুনর্গঠনের ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে স্থায়ী নিরাপত্তা, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন।
নিউইয়র্কে ৬৬টি প্রকল্পের মাধ্যমে সেই পুনর্গঠনের নকশা সামনে এসেছে। কিন্তু গাজার মাটিতে এখনো যে বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে, তা হলো পুনর্গঠনের পথ শুরু করার আগেই যুদ্ধবিরতি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমঝোতার অসম্পূর্ণ প্রশ্নগুলোর সমাধান করতে হবে।