নতুন হামলা হলে পরিণতি আরও খারাপ হবে: ফাদাভি

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে আগের তুলনায় আরও কঠোর ও ব্যাপক জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস, আইআরজিসির কমান্ডারের উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান আলী ফাদাভি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ ফাদাভির বক্তব্য উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে। তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ যদি কোনো ‘ভুল হিসাবের’ কারণে আবারও ইরানে হামলা চালায়, তাহলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর হবে।

ফাদাভির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং তেহরান বারবার নতুন হামলার ক্ষেত্রে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে।

এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর আইআরজিসিও সতর্ক করে বলেছিল, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো আগ্রাসন হলে দেশটির প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলার ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। এর মধ্যে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং লক্ষ্যবস্তুর পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।

ফাদাভির বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা হলে তেহরানের প্রতিক্রিয়া আগের হামলার তুলনায় আরও বড় হতে পারে।

তবে তিনি সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার নির্দিষ্ট সময়, লক্ষ্য বা সামরিক পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি। ফলে তার বক্তব্যকে আপাতত একটি রাজনৈতিক ও সামরিক সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নতুন হামলা থেকে বিরত থাকার সতর্কতা দিয়েছেন। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পক্ষ থেকেও ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক তৎপরতা নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়েছে।

এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির সঙ্গে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক তেল ও জাহাজ চলাচলের ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে।

তাসনিমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি বাহিনী হরমুজ প্রণালির ওপর একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন এবং একটি অরবিটার গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে। এসব দাবির স্বাধীন যাচাই সীমিত।

এদিকে ইরান নতুন করে হামলার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার মাত্রা বাড়ানোর কথা বললেও, এই মুহূর্তে ফাদাভির বক্তব্যের পর কোনো নতুন সামরিক অভিযান ঘোষণা করা হয়নি।

ফাদাভির হুঁশিয়ারি থেকে বোঝা যায়, তেহরান নতুন কোনো মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলাকে আগের মতো সীমিত পরিসরে মোকাবিলা করার বদলে আরও বিস্তৃত প্রতিক্রিয়ার কথা বিবেচনা করছে। তবে বাস্তবে ইরান কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ সামরিক পরিস্থিতি এবং হামলার ধরন ও মাত্রার ওপর।

ফলে সাম্প্রতিক এই বক্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে পারস্পরিক প্রতিরোধ ও পাল্টা হামলার হুমকি আরও জোরালো হওয়ার একটি নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ধরনের বক্তব্য নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকিও তৈরি করছে।