সম্ভাব্য যেকোনো আগ্রাসনের জবাব অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেখারচি। তিনি বলেছেন, শত্রুর জন্য ইরানের হাতে চমক রয়েছে এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতাও আগের তুলনায় আরও উন্নত ও শক্তিশালী হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে দেওয়া বক্তব্যে শেখারচি বলেন, ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় দেশ রক্ষার পাশাপাশি ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানো এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের চেষ্টা করেছিল। ওই সময় সাবেক বাথ শাসিত ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু হওয়াকে এর একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ছিল প্রচলিত যুদ্ধব্যবস্থা থেকে অসম যুদ্ধকৌশলের দিকে প্রতিরক্ষা নীতির পরিবর্তন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচলিত যুদ্ধপদ্ধতি অসম যুদ্ধকৌশলের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ।
অসম যুদ্ধকৌশলের ব্যাখ্যা দিতে শেখারচি বলেন, এর অর্থ হলো শত্রুর ব্যয়বহুল ও ভারী অস্ত্রের মোকাবিলা করে তুলনামূলক কম খরচে, সহজ কিন্তু কার্যকর ও বাস্তবসম্মত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মাধ্যমে জয় অর্জন করা। তিনি জানান, ইরানের অসম যুদ্ধকৌশল আত্মত্যাগ, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
শত্রুপক্ষের হিসাব-নিকাশের ভুলের প্রসঙ্গ তুলে শেখারচি বলেন, শত্রুর সামান্যও বোধবুদ্ধি থাকলে ইরানে হামলা করত না। তিনি বলেন, শত্রুকে চমকে দেওয়ার জন্য তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি মূলনীতি।
তার দাবি, ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা শক্তি নিয়ে শত্রুপক্ষের হিসাব যে ভুল ছিল, তা তারা ইতোমধ্যে বুঝতে পেরেছে। ইরানের জাতীয় শক্তির কিছু অনন্য উপাদান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে জনগণের রাস্তায় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিতিকে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানের বিজয়ের অন্যতম মৌলিক কারণ হিসেবে তুলে ধরেন শেখারচি।
ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হুমকির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো আগ্রাসনের জবাব নতুন সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেই দেবে ইরান। তিনি দাবি করেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের শুরুতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যে অবস্থায় ছিল, বর্তমানে তা থেকে তারা বহুগুণ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে খুব ভালো অবস্থায় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শেখারচি। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আরও উন্নত ও শক্তিশালী হয়েছে। এবার শত্রুর জন্য ইরানের হাতে চমক রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি এবং সম্ভাব্য যেকোনো আগ্রাসনের জবাব অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও বক্তব্য দেন শেখারচি। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ইরানের হাতে রয়েছে। ইরানের নির্ধারিত পথের বাইরে দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে চাইলে সেটি নিরাপদ থাকবে না বলেও সতর্ক করেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এই মুখপাত্র। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি