'বিশ্বজুড়ে মার্কিনদের যেখানে স্বার্থ আছে সেখানেই হামলা করবে ইরান'

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থে হামলার হুমকি ইরান প্রকাশ্যে দিয়ে আসছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এমন কোনো হামলা বা হামলার চেষ্টা হলে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে হামলার হুমকিকে ওয়াশিংটন সবসময় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। তাঁর ভাষায়, এমন হামলা সংঘটিত হলে কিংবা হামলার চেষ্টা হলেও এর জন্য ‘পরিণতি’ হবে।

রুবিওর এই মন্তব্য আসে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (RAF) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর। মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত এই ঘাঁটিটি ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

রুবিও ঘটনাটিকে ‘খুবই গুরুতর হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এতে কোনো বিদেশি পক্ষের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। তবে তিনি ওই বিদেশি পক্ষের নাম প্রকাশ করেননি।

ব্রিটিশ পুলিশ জানিয়েছে, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক কয়েকটি ভ্যান দেখা যাওয়ার পর পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি ও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছিল। পরে পাঁচজনকেই জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তদন্তে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের হয়ে তাঁরা কাজ করেছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা সম্ভাব্য বিদেশি সম্পৃক্ততার বিভিন্ন দিক পরীক্ষা করছেন। ইরান-সংশ্লিষ্ট কোনো উদ্দেশ্যকে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও রুশ নাশকতা বা অন্য কোনো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইরান অবশ্য ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিগুলোর একটি। সেখানে মার্কিন বোমারু বিমান মোতায়েন করা হয় এবং সাম্প্রতিক ইরান সংঘাতের সময়ও ঘাঁটিটি ব্যবহৃত হয়েছে। এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইরানে হামলার জন্য ব্যবহৃত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে সম্ভাব্য বৈধ লক্ষ্য হিসেবে সতর্ক করেছিল বলে প্রতিবেদন এসেছে।

এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগও চলছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার দুই দেশের কর্মকর্তারা আলাদাভাবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আলোচনায় ইরানের সংশোধিত সাত দিনের শান্তি প্রস্তাব গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রস্তাবটিতে যুদ্ধবিরতি, ইরানের কিছু সম্পদ জব্দমুক্ত করা, তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয় রয়েছে। বিনিময়ে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছে।

ফলে একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক ও নিরাপত্তা চাপ অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। ফেয়ারফোর্ডের ঘটনা সেই উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তবে ঘটনাটির পেছনে কোন বিদেশি পক্ষ রয়েছে, সে বিষয়ে ব্রিটিশ তদন্ত এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।

সূত্র: আল জাজিরা