যুদ্ধের জন্য যেমন প্রস্তুত, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথেও তেমনই খোলা আছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুদ্ধ চাইছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান নয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় ইরানি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আরাগচি তার নিউইয়র্ক সফরের একটি প্রধান উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে যুদ্ধ নিয়ে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অবস্থান বিশ্বকে জানানোই ছিল সেই লক্ষ্য।
আরাগচি বলেন, ‘দেশের নেতা কিছু শর্তের কথা জোর দিয়ে বলেছেন। হরমুজ প্রণালি খুলতে হলে সেই শর্তগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।’
তার ভাষ্যমতে, এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য সব দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁর দায়িত্ব। উদ্দেশ্য একটাই, সবাই যেন বোঝে ইরানের একটি পরিকল্পনা আছে এবং শর্তগুলো পুরোপুরি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। ‘আমেরিকানরা যদি বলে তারা চুক্তি বা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাহলে সেই সমাধান আমরা হাজির করেছি,’ বলেন তিনি।
আরাগচির মতে, এখন সবার কাছে পরিষ্কার, এত নিপীড়ন সহ্য করার পরও, এমনকি ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের মধ্যেও কূটনীতির মঞ্চে ইরানের একটি অবস্থান, যুক্তি ও সমাধান আছে। ‘যুদ্ধের জন্য যেমন প্রস্তুত, কূটনীতির জন্যও তেমনই প্রস্তুত,’ বলেন তিনি। এতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরানের মর্যাদা অনেক বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার কথায়, বিভিন্ন দেশ এখন ইরানকে ভিন্ন চোখে দেখছে, আর এটিও স্পষ্ট হয়ে গেছে যে যুদ্ধ চায় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান নয়।
ইরানের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি সাত দফা পরিকল্পনা নামে পরিচিতি পেয়েছে। আরাগচি জানান, কাতারের মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এটি যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো হয়েছে। ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট যা-ই বলুন না কেন, আমি বলেছি, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আমরা আমেরিকার আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় আছি,’ বলেন তিনি।
সোমবার কাতারের মধ্যস্থতাকারী আবার ইরানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আরাগচি জানান, ইরানের শর্তগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় এবং সেগুলোতে কীভাবে পৌঁছানো সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ‘তাঁদের কিছু ভাবনা ছিল, আমরাও আলোচনা করেছি। সেসব তারা আবার মার্কিন পক্ষের কাছে তুলবেন। এরপর মার্কিন পক্ষের চূড়ান্ত জবাব আমাদের কাছে পৌঁছাবে। আশা করি, মঙ্গলবারের মধ্যেই তা আসবে,’ বলেন তিনি।
নিউইয়র্কের দিনগুলো নিয়ে আরাগচি বলেন, ‘কয়েকটি দিন খুব ব্যস্ত আর ঠাসা কর্মসূচিতে কেটেছে। তবে আমার মনে হয়, ফলাফল ভালো হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমরা ইরানকে আত্মবিশ্বাস, শক্তি ও মর্যাদার সঙ্গে হাজির করতে পেরেছি, যেখানে দেশটি নিজের স্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার।’
মার্কিন জবাব পাওয়া পর্যন্ত তিনি নিউইয়র্কে থাকবেন, নাকি আগে তেহরানে ফিরবেন, এ প্রশ্নের উত্তরে আরাগচি জানান, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি তেহরানের উদ্দেশে রওনা হবেন। জবাব যখনই কাতারিদের হাতে আসুক, ইরানের কাছে তা কীভাবে পৌঁছাতে হবে, সেটা তাঁদের জানা আছে।
তিনি আরও বলেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে যোগাযোগ ও বার্তা বিনিময় বরাবরই ছিল। তবে ইরান যে পরিকল্পনা হাজির করেছে, তার পর থেকে এসব যোগাযোগ আরও গুরুত্ব নিয়ে এগোচ্ছে। ‘জবাব এলে কাতারিরা সেটা আমাদের জানাবে, আর তার ভিত্তিতে তেহরানে সিদ্ধান্ত হবে। তবে আমি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিউইয়র্ক ছেড়ে যাচ্ছি,’ বলেন আরাগচি।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি