গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৩১ জন আহত হয়েছেন। বুধবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত দৈনিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে আটজন নতুন করে নিহত হয়েছেন এবং একজন আগের হামলায় আহত হয়ে পরে মারা গেছেন। আহত ৩১ জনকে গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় হামলা ও হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৩১ জন নিহত এবং ৫ হাজার ২৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও ৮৩৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতির পর নিহতের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪২২ এবং আহত ৪ হাজার ৯৯৬ জন।
এদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ৩২ জনে পৌঁছেছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে জানানো হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪২ জন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২৭ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গাজায় মোট ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে এবং ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মরদেহ উদ্ধারের কাজও অব্যাহত রয়েছে। ফলে উদ্ধার হওয়া মরদেহ এবং পরে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের তথ্য যুক্ত হওয়ায় মোট হতাহতের পরিসংখ্যানে পরিবর্তন আসতে পারে।
ইসরায়েলি হামলা, আহতদের চিকিৎসা এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারের পরিস্থিতি গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরও বড় চাপ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এর আগে গাজার স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং চিকিৎসাসেবা পরিচালনার নানা সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পরও নতুন করে হতাহতের ঘটনা অব্যাহত থাকায় গাজায় যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা ও এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। তবে সাম্প্রতিক হতাহতের প্রতিটি ঘটনার দায় ও পরিস্থিতি পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।