শত্রুকে প্রতিরোধে প্রয়োজন হলে যতসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র দরকার, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তা নিক্ষেপ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মহাকাশ বিভাগের কমান্ডারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী বালালি। তিনি বলেছেন, ইরানের বর্তমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কোনো হামলার জবাব প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে দেওয়া সম্ভব।
এক সাক্ষাৎকারে বালালি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি অন্যান্য অনেক ধরনের অস্ত্র ও সামরিক পদ্ধতির তুলনায় বেশি জটিল ও চ্যালেঞ্জিং। একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে তিনি অত্যন্ত কঠিন একটি কাজের উদাহরণ হিসেবেও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক একটি প্রদর্শনীতে দেখানো সব সরঞ্জামই ইরানের নিজস্ব জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দেশে তৈরি হয়েছে।
বালালি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা জ্ঞান ও প্রযুক্তি কাজে লাগালেও নিষেধাজ্ঞা ও নানা বাধা ইরানের সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তার ভাষায়, এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
তবে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ছিল অত্যন্ত সীমিত। বালালি জানান, ১৯৮০-এর দশকের ওই আট বছরের যুদ্ধে ইরান মোট ৮৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। সে সময় ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ছিল অত্যন্ত বেশি এবং সেগুলোর ব্যয় বহন করার মতো পর্যাপ্ত সম্পদও ইরানের হাতে ছিল না।
ফলে যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে ইরানকে একবারে সীমিতসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে হতো বলে জানান তিনি। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করে বালালি বলেন, এখন আর ইরানকে সেই ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয় না।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিটি অভিযানে প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে। এর মাধ্যমে শত্রুকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং তাকে বোঝানো সম্ভব যে আঘাত করে দ্রুত সরে যাওয়ার যুগ শেষ হয়েছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে বালালি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ সীমিতসংখ্যক হামলা চালালেও ইরান তার কয়েক গুণ জবাব দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও উৎক্ষেপণের সক্ষমতা এমন পর্যায়ে রয়েছে যে সংঘাত বর্তমান গতিতে কয়েক বছর চললেও দেশটি অভিযান চালিয়ে যেতে পারবে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে দেশটির কর্মকর্তাদের বিস্তারিত পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান বালালি। তার দাবি, এসব পরিকল্পনা ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনির নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি