ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনি ইমাম নিহত

গাজার দক্ষিণাঞ্চলে কোরআন মুখস্থকরণ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির সময় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন এক ফিলিস্তিনি ইমাম ও ধর্মীয় রেডিও উপস্থাপক।

বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) গাজার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত মোহাম্মদ আবদুল আজিজ আল নাজ্জারের বয়স ৩৮ বছর। তিনি ইমামের পাশাপাশি গাজার ওয়াকফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন কোরআন রেডিওতে ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রযোজনা ও উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করতেন।

মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম পরিচালক ইকরামি আল মুদাল্লাল বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে বলেন, কোরআন মুখস্থকরণ নিয়ে গণমাধ্যমের জন্য প্রতিবেদন তৈরির কাজ করার সময় আল নাজ্জারকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়।

নাসের হাসপাতালের একটি চিকিৎসা সূত্র জানায়, খান ইউনিসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আল রারার আল মাওয়াসি এলাকায় হামলার পর আল নাজ্জারের মরদেহ এবং মাঝারি মাত্রায় আহত আরও একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

গাজার ওয়াকফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় আল নাজ্জারের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, তিনি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ধর্মীয় ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আল মুদাল্লালের তথ্য অনুযায়ী, আল নাজ্জার খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলের খুজায়া এলাকার ইবাদ আল-রহমান মসজিদের ইমামও ছিলেন। এলাকাটি বর্তমানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আল নাজ্জারের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বুধবার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে দক্ষিণ গাজা সিটির তেল আল হাওয়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী গাড়ি ও টানা একটি যানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হন।

এ ছাড়া বুধবার ভোরে গাজা সিটির আল ওয়াহদা সড়কে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইমান আবদুল আল নামের এক ফিলিস্তিনি নারী নিহত হন। এ ঘটনায় তার স্বামী গুরুতর আহত হয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বুধবার প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ২৬ জন আহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এ সময় উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।