মার্কিন সেনা সরতেই সামরিক কার্যক্রম স্থগিত করলো কাতাইব হিজবুল্লাহ

ইরাক থেকে সর্বশেষ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর সামরিক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহ। তবে ইরাকের আকাশসীমায় প্রবেশকারী ‘শত্রু উড়োজাহাজের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতাইব হিজবুল্লাহর নেতা আহমাদ আল-হামিদাওয়ি যোদ্ধাদের সামরিক অভিযান স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরাকের আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী ‘শত্রু উড়োজাহাজ’ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

ইরাক থেকে সর্বশেষ মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার পরই কাতাইব হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এ ঘোষণা আসে। বাগদাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া চুক্তির আওতায় ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া এর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ জানিয়েছে, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে তাদের আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছায়নি। সরকারের ঘোষিত কোনো সময়সীমা কিংবা রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে হওয়া কোনো সমঝোতার বাধ্যবাধকতাও তারা মানবে না বলে জানিয়েছে জোটটি।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি দেশটির সব অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে দেশটির শক্তিশালী কয়েকটি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণ বা নিরস্ত্রীকরণের বিরোধিতা করে আসছে।

কাতাইব হিজবুল্লাহ ইরান-সমর্থিত একটি ইরাকি শিয়া সশস্ত্র সংগঠন। যুক্তরাষ্ট্র ২০০৯ সালে সংগঠনটিকে ‘ফরেন টেররিস্ট অর্গানাইজেশন’ (এফটিও) হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর কাতাইব হিজবুল্লাহর এই ঘোষণা ইরাকে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।