ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সেনাসদস্যদের মরদেহ দাফন ও সংরক্ষণের বিশেষ মহড়া চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। সম্ভাব্য সংঘাতে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্যের প্রাণহানি এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে—এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে মার্কিন সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে গণকবর দেওয়ার কৌশলগত অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন।
নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটিতে এ মহড়ার আয়োজন করে থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ড ও ২০তম প্রকৌশলী ব্রিগেড। এতে ভারী এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে কীভাবে দ্রুত ও সুসংগঠিতভাবে নিহত সেনাসদস্যদের মরদেহ দাফন করা যায়, তা অনুশীলন করা হয়।
ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যদের মরদেহ সাধারণত দ্রুত বিমানে করে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হতো। কিন্তু ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলে আকাশপথে মরদেহ সরিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে সামরিক পরিকল্পনায় আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির পরিস্থিতি বিবেচনায় সেনাসদস্যদের পাশাপাশি সামরিক চ্যাপ্লেনরাও এই প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে অস্থায়ী দাফন এবং মরদেহ যথাযথভাবে সংরক্ষণের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন মার্কিন সেনাবাহিনীর এ ধরনের প্রস্তুতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধের ময়দানে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্যের প্রাণহানির আশঙ্কা মোকাবিলায় এমন মহড়া কতটা জরুরি হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে এই মহড়া ইরানের বিরুদ্ধে আসন্ন হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কিংবা সম্ভাব্য প্রাণহানির পরিমাণের প্রমাণ নয়। এটি সামরিক বাহিনীর জরুরি পরিস্থিতিতে মরদেহ ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
'হামলার জবাব দিতে ভৌগোলিক সীমারেখা মানবে না ইরান'
ইউক্রেন যুদ্ধে কৃষ্ণসাগরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু