দুই সপ্তাহ বা এক মাসে ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়বে না: অর্থমন্ত্রী

ইরানের অর্থনীতি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধসে পড়বে এমন পূর্বাভাস নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ। তিনি বলেছেন, ইরানের অর্থনীতি দুই সপ্তাহ কিংবা এক মাসের মধ্যে ভেঙে পড়বে এমন দাবি বহু বছর ধরেই করা হচ্ছে, কিন্তু তা বাস্তবে ঘটবে না।

ইরানের অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পূর্বাভাসের উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অস্থিরতা তৈরি করা। একই সঙ্গে মানুষকে তাড়াহুড়ো করে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ছুটতে উৎসাহিত করা, যাতে মুদ্রার দাম আরও বেড়ে যায়।

মাদানিজাদেহ বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে বলা হচ্ছে, ইরানের অর্থনীতি দুই সপ্তাহ বা এক মাসের মধ্যে ধসে পড়বে। এটি অবশ্যই ঘটবে না।’

তার বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রার দরপতন, মূল্যস্ফীতি এবং আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে চাপের মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপ নিয়েও তেহরানে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে মাদানিজাদেহ বলেছিলেন, নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ইরান দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে।

ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপের অন্যতম বড় কারণ দেশটির মুদ্রা রিয়ালের দুর্বলতা। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা ও সোনার দিকে ঝুঁকলে বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ে। মাদানিজাদেহের বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থনীতি দ্রুত ধসে পড়ার গুজব বা পূর্বাভাস এ ধরনের আচরণকে আরও তীব্র করতে পারে।

তবে ইরানের অর্থনীতিতে বাস্তব চাপও রয়েছে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাবের কথা উঠে এসেছে।

এর আগে ইরানের অর্থমন্ত্রী আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলায় চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ব্রিকস সদস্যদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রিকসের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো ইরানের জন্য দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

মাদানিজাদেহের সর্বশেষ মন্তব্য মূলত বাজার ও জনগণের মধ্যে আস্থা ধরে রাখার সরকারি অবস্থানকে তুলে ধরছে। তবে ইরানের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন পূর্বাভাসের যথার্থতা নির্ভর করবে নিষেধাজ্ঞার মাত্রা, বৈদেশিক মুদ্রার বাজার, তেল রপ্তানি, মূল্যস্ফীতি এবং আঞ্চলিক সংঘাতের গতিপথের ওপর।