ইয়েমেনে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ খাদ্যসংকটে, অপুষ্টিতে ২২ লাখ শিশু

ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ প্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করতে পারছেন না বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রোম থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডব্লিউএফপির সহকারী নির্বাহী পরিচালক ম্যাথিউ হলিংওয়ার্থ জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং ডব্লিউএফপির কার্যক্রম পৌঁছাতে পারে—এমন এলাকাগুলোতে প্রতি চারটি পরিবারের তিনটি খাবার বাদ দিতে বাধ্য হতে পারে।

সরকার-নিয়ন্ত্রিত এসব এলাকায় প্রায় ১ কোটি মানুষ বসবাস করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হলিংওয়ার্থ বলেন, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রভাব দেশটির খাদ্যনিরাপত্তার ওপর ‘ভয়াবহ’ হতে পারে।

ইয়েমেনে কয়েক বছর ধরে চলা সংঘাতের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে লড়াই তীব্র হয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং বাজার ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থায়ও ব্যাঘাত ঘটছে। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হন।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে বর্তমানে ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ২২ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে; এর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ শিশু গুরুতর অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে।

এর আগে ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (IPC) জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার সংকট বা তার চেয়েও খারাপ পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়েও প্রায় একই সংখ্যক মানুষের জরুরি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

ডব্লিউএফপি বলছে, ইয়েমেনের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ দেশটির খাদ্য আমদানিনির্ভরতা। দেশটি প্রয়োজনীয় খাদ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে। ফলে সংঘাতের কারণে বন্দর, বাণিজ্যপথ ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের খাদ্যপ্রাপ্তির ওপর।

সাম্প্রতিক সংঘাতে পশ্চিম উপকূল ও লোহিত সাগরসংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ছে। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, আল-মোখা এলাকায় সংঘর্ষের কারণে তাদের বেশ কিছু কার্যালয় ও খাদ্য বিতরণকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

সংস্থাটি সতর্ক করেছে, সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে ইয়েমেনের খাদ্যসংকট আরও গভীর হতে পারে।

হলিংওয়ার্থের ভাষায়, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির এই অবনতি দেশটির খাদ্যনিরাপত্তার ওপর ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’ প্রভাব ফেলতে পারে।