তেহরানে ডিজে-মিউজিক-হুক্কা ক্যাফে বন্ধের হুঁশিয়ারি 

তেহরানে লাইভ মিউজিক আয়োজন, ডিজে পরিবেশনা কিংবা হুক্কা পরিবেশন করা হলে ক্যাফের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া বা লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত কার্যক্রমের বাইরে এসব আয়োজনকে লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তেহরান পুলিশের ব্যবসা ও জনসমাগমস্থল তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা আলি রাফেইয়ি বলেছেন, ক্যাফেগুলোকে তাদের লাইসেন্সে অনুমোদিত কার্যক্রমের মধ্যেই ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। লাইসেন্সের আওতার বাইরে হুক্কা পরিবেশন, লাইভ মিউজিক বা ডিজে আয়োজন এবং জুয়া-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডকে লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

রাফেইয়ি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পদক্ষেপ নেবে। প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হতে পারে এবং ভবিষ্যতে নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হবে। তবে একই ধরনের লঙ্ঘন বারবার হলে ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে।

ক্যাফেগুলোতে বাড়ছে নজরদারি

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের বিভিন্ন শহরে ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, দোকান, জিম ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একের পর এক ব্যবস্থা নেওয়ার পর নতুন এই সতর্কবার্তা দেওয়া হলো। জুলাইয়ের শেষ থেকে আগস্টের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে অন্তত ৪২টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সিলগালা করার খবর পাওয়া গেছে।

একই সময়ে আরদাবিলের তিনটি কফিশপ বন্ধ করে দেওয়া এবং ১৬ জনকে গ্রেপ্তারের কথাও জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।

তবে শুধু বিনোদন বা ব্যবসায়িক লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বাধ্যতামূলক হিজাববিধি কার্যকর করা এবং দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভের প্রতি সমর্থনের অভিযোগেও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তরুণদের জমায়েত নিয়েও পুলিশের নজর

ক্যাফের ভেতরের কার্যক্রমের পাশাপাশি এর আশপাশের জনপরিসর নিয়েও পুলিশ নজরদারি করছে বলে জানিয়েছেন রাফেইয়ি। তেহরানের সানাই ও ইরানশাহর সড়কের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ওই এলাকায় গাড়ি ঘোরাফেরা, ক্যাফের ফুটপাত দখল করে বসার ব্যবস্থা এবং উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়, এমনভাবে তরুণদের দলবদ্ধ হয়ে অবস্থান করা যানজট ও অভিযোগের কারণ হয়েছে।

তিনি বলেন, ফুটপাত বা জনসাধারণের চলাচলের জায়গা আটকে রাখলেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রেও সাধারণত প্রথমে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয় এবং লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়। তবে নিয়ম লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে।

বিক্ষোভে সমর্থনের অভিযোগেও শাস্তি

ক্যাফে পরিচালনাকারীদের ওপর নজরদারি ও ব্যবস্থার আওতা বিক্ষোভে সমর্থন জানানো মালিকদের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হয়েছে। এমনই একটি ঘটনায় সেপ্টেম্বরে ইরানের সর্বোচ্চ আদালত সাদেক সাদিনিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া কারাদণ্ড ও সম্পদ বাজেয়াপ্তের সাজা বহাল রাখে।

সাদিনিয়া প্রপার্টিজ অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান সাদেক সাদিনিয়াকে ১২ বছর ৬ মাস ১ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজা শেষ করার পর আরও দুই বছর ক্যাফে ব্যবসায় কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর মালিকানাধীন ক্যাফে ব্যবসার সব শাখা সিলগালা করা হয়।

বিচার বিভাগ জানিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট, বিভিন্ন সমাবেশে অংশ নেওয়া, ক্যাফে ও দোকান বন্ধ রাখা এবং কর্মীদের বিক্ষোভে অংশ নিতে উৎসাহ দেওয়ার মতো বিষয় মামলাটির সঙ্গে যুক্ত ছিল।

তেহরান পুলিশের সর্বশেষ সতর্কবার্তার ফলে ক্যাফে পরিচালনাকারীদের জন্য নিষেধাজ্ঞার আওতা আরও বিস্তৃত হলো। এখন লাইভ মিউজিক, ডিজে ও হুক্কা পরিবেশনের পাশাপাশি বাধ্যতামূলক হিজাববিধি, জনপরিসর ব্যবহারের নিয়ম এবং বিক্ষোভে সমর্থনের মতো বিষয়েও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুলিশের নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল