সৌদির অগ্রগতির দাবি ‘কল্পিত বিজয়’: ইয়াহিয়া সারি 

যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের দখলে নেওয়া সব এলাকা এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছে হুথিরা। সৌদি সমর্থিত বাহিনীর সাম্প্রতিক অগ্রগতির দাবিকে কল্পিত বিজয় আখ্যা দিয়ে হুথিদের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, পশ্চিম উপকূলসহ বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে হুথিরা।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারি বলেন, হুথিরা যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সব অবস্থানের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। শত্রুপক্ষ যেসব ঘটনাকে বিজয় হিসেবে তুলে ধরছে, সেগুলো তাদের পৃষ্ঠপোষকদের সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে প্রচার করা কল্পিত সাফল্য ছাড়া কিছু নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হুথিদের দাবি, গত কয়েক ঘণ্টায় রাস আল-আরা ও আল-সাকিয়া এলাকায় সৌদি সমর্থিত বাহিনীর চলাচল লক্ষ্য করে কয়েক ডজন হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ২০০ জনের বেশি সৌদি সমর্থিত যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি সামরিক যান ধ্বংস ও আগুনে পুড়ে যাওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

ইয়াহিয়া সারির ভাষ্য অনুযায়ী, আগের সব সংঘর্ষের তুলনায় এবারের লড়াইয়ে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর জনবল ও সামরিক যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি নজিরবিহীন। হুথিরা আল-জাওফ প্রদেশের পূর্বাঞ্চলেও সৌদি সামরিক অবস্থান ও সমাবেশ লক্ষ্য করে কয়েক ডজন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব হামলায় ব্যাপক হতাহতের পাশাপাশি কয়েকটি সামরিক যান ধ্বংস ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

মারিব প্রদেশের রাগওয়ানের পূর্বাঞ্চলেও সৌদি সামরিক অবস্থানে হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা। এতে কয়েকজন সামরিক সদস্য নিহত ও আহত এবং কয়েকটি সামরিক যান পুড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।

আবহা বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি

পরে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারি জানান, সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি অভিযান চালিয়েছে হুথিরা। তাদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে এবং এর ফলে বিমানবন্দরের বিমান চলাচল ব্যাহত হয়।

সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার অব্যাহত রাখা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকেও সতর্ক করেছে হুথিরা। ইয়াহিয়া সারি বলেন, মক্কা ও মদিনার পবিত্র এলাকার ওপরের আকাশসীমা ছাড়া সৌদি আকাশসীমা এখন হুথিদের সামরিক অভিযানের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

এদিকে স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাব আল-মানদাব ফ্রন্টের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ধুবাব বিমানবন্দর ও মুরাদ এলাকা পুনর্দখলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে হুথিরা। এসব প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ওই অঞ্চলে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর আগে অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির প্রায় সবই হুথিরা উল্টে দিয়েছে।

এর আগে সোমবার সৌদি সমর্থিত বাহিনী দাবি করেছিল, তারা লোহিত সাগরের উপকূলে বাব আল-মানদাব প্রণালির কাছে ধুবাব জেলা পুনর্দখল করেছে। পরে তারা বন্দরনগরী মোখা দখলের দাবিও করে।

তবে ইয়েমেনের মাঠপর্যায়ের সূত্রের দাবি, বাব আল-মানদাব প্রণালির কাছে আল-মুদারাবাহ এলাকায় সৌদি জোটসমর্থিত বাহিনীর সীমিত অগ্রগতিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে হুথিরা।

হুথিরা এর আগে সৌদি ভূখণ্ডের গভীরেও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এসব অভিযানে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাবিগে সৌদি আরামকোর একটি শোধনাগার লক্ষ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

সোমবার ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছিলেন, এসব অভিযানে বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথম হামলাটি কিং খালিদ বিমানবন্দরে সরাসরি আঘাত হানে এবং এর ফলে বিমান চলাচল ব্যাহত হয় বলে দাবি করেন তিনি।

জুলাইয়ে ইয়েমেনের রাজধানী সানার প্রধান বিমানবন্দরে সৌদি হামলার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলার পর হুথিরা সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।

হুথিরা জানিয়েছে, রিয়াদ ইয়েমেনের ওপর দীর্ঘদিনের অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত সৌদি সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রাখবে। তাদের দাবি, সৌদি হামলার অন্যতম লক্ষ্য হলো লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব আল-মানদাবে হুথিদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করা।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ওই অঞ্চলে বিদেশি সমর্থনপুষ্ট বাহিনীকে পরাজিত করে হুথিরা বাব আল-মানদাব প্রণালির কাছাকাছি ও এর ভেতরের কয়েকটি এলাকায় অগ্রসর হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সূত্র: প্রেস টিভি