সাইবেরিয়ার একটি প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রে ২৮ বছর বয়সী এক নারী গবেষকের মৃত্যুর ঘটনায় রাশিয়ার কাছে আরও তথ্য চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র খুব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে রাশিয়ার আরও তথ্য বিশ্বের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত।
ইরকুতস্ক শহরের প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রে কাজ করতেন ওই নারী। রুশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার নাম দারিয়া শিপিলোভা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েক দিন অসুস্থ থাকার পর তার মৃত্যু হয়। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। রাশিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, তিনি অনির্ধারিত কারণের নিউমোনিয়ায় মারা গেছেন।
ঘটনাটি ঘিরে বিভিন্ন ধরনের জল্পনা ছড়িয়েছে। অপ্রমাণিত কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রোগজীবাণু বহনকারী একটি পরীক্ষানল ভেঙে যাওয়ার পর অথবা বন্য ইঁদুরের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে প্লেগ ছড়িয়ে থাকা কোনো এলাকায় মাঠপর্যায়ের সফরের পর তিনি অসুস্থ হয়ে থাকতে পারেন। তবে রুশ কর্মকর্তারা এসব তথ্যকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেছেন, তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কারও নিউমোনিক প্লেগ শনাক্ত হয়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক মুখপাত্রের মাধ্যমে রাশিয়ার দেওয়া একটি বিবৃতিও মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ইরকুতস্ক শহরে এই বিপজ্জনক রোগের কোনো ঘটনা শনাক্ত হয়নি। ওই নারীর সংস্পর্শে আসা সবাইকে শনাক্ত করে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কারও মধ্যে রোগের উপসর্গ দেখা যায়নি।
এর আগে শুক্রবার ওই গবেষকের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে প্রায় ২০০ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখার খবর পাওয়া যায়। এরপরই ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ ও নানা জল্পনা শুরু হয়।
আইসল্যান্ড সফরের সময় রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার আরও তথ্য বিশ্বের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত। পরিস্থিতি খুব ঘনিষ্ঠভাবে, এমনকি ঘণ্টায় ঘণ্টায় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পরিস্থিতি রাশিয়ার দেওয়া তথ্যের চেয়ে গুরুতর হলে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
রুবিওর বক্তব্যের পর রাশিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা পাল্টা জানায়, সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে প্রস্তুত মস্কো। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও বলেন, পারস্পরিক সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া ভালো বিষয়। একই সঙ্গে তিনি গবেষকের মৃত্যুর বিষয়ে রুশ স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার দেওয়া তথ্যের কথাই তুলে ধরেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঘটনাটি খুব গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং দুর্যোগ মোকাবিলাসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করছে।
এদিকে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি নথিতে রাশিয়ায় বিশেষ প্লেগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি নিয়েও জল্পনা শুরু হয়। রাশিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানায়, নথিটি কোনো সরকারি উৎস থেকে প্রকাশিত নয় এবং এতে থাকা তথ্যও সত্য নয়।
প্লেগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস সাইবেরিয়ার ওই অঞ্চলের মারমটসহ বিভিন্ন ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মধ্যে পাওয়া যায়। চতুর্দশ শতাব্দীতে এই জীবাণু ইউরোপে মহামারি সৃষ্টি করে, যা ইতিহাসে ব্ল্যাক ডেথ নামে পরিচিত। ওই মহামারিতে ইউরোপের বিপুলসংখ্যক মানুষ মারা যায়।
নিউমোনিক প্লেগ প্লেগের একটি গুরুতর ধরন, যা চিকিৎসা না করা হলে প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এর চিকিৎসা সম্ভব। এই ধরনটির বিশেষ উদ্বেগের কারণ হলো এটি আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অন্য মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে।
রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষীয় অণুজীববিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক সাইমন ক্লার্ক বলেন, সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের খবর পেলেই অনেকে কোভিড মহামারির মতো পরিস্থিতির কথা ভাবতে শুরু করেন। তবে বর্তমান ঘটনায় সেরকম পরিস্থিতি তৈরি হবে, এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই। তার মতে, প্লেগ অতীতের কোনো বিলুপ্ত রোগ নয়; মানবস্বাস্থ্যের জন্য এটি এখনো একটি হুমকি এবং এ কারণেই রোগটি নিয়ে গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ। সুত্র: সিএনএন
সৌদিতে সেনা মোতায়েনের রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান পাকিস্তানের
অর্থনৈতিক যুদ্ধেও হারবে যুক্তরাষ্ট্র: মোহসেন রেজাই
৪৯ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালাচ্ছে ইরান: ভ্যান্স