ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ক্ষয়ক্ষতি ৮১-এর চেয়েও বেশি: আরাঘচি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান ও ড্রোনের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা প্রকাশিত হিসাবের চেয়েও বেশি বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের Congressional Research Service (CRS)-এর সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করেন। আরাঘচির দাবি, প্রতিবেদনে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে ৮১টি বিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। তাঁর ভাষ্য, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এর চেয়েও বেশি।

CRS-এর ৫ অক্টোবরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে অন্তত ৮১টি ফিক্সড-উইং ও রোটারি-উইং বিমান এবং চালকবিহীন আকাশযান হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মে মাসের হিসাবের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৮১টি বিমানই ইরানের হামলায় ধ্বংস হয়েছে—এমন কথা CRS বলেনি। প্রতিবেদনে বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি, দুর্ঘটনা, শত্রুপক্ষের হামলা এবং কিছু ক্ষেত্রে বন্ধুসুলভ আগুনের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিছু ক্ষতিগ্রস্ত বিমান পরে আবার সক্রিয় অবস্থায় ফিরতে পারে বলেও CRS উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনটি সংবাদমাধ্যমের তথ্য, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ও সেন্ট্রাল কমান্ডের বক্তব্য এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় ভবিষ্যতে এই সংখ্যা সংশোধিত হতে পারে।

CRS-এর তালিকায় সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছে MQ-9 Reaper ড্রোন। অন্তত ৪৫টি এ ধরনের ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানোর হিসাব রয়েছে। তালিকায় ১২টি F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমান, সাতটি KC-135 ট্যাংকার এবং সাতটি হেলিকপ্টারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

CRS-এর এই হিসাবের আর্থিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের উদ্ধৃতি দিয়ে CRS জানিয়েছে, হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত বিমান প্রতিস্থাপনের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১.৯ বিলিয়ন থেকে ৩.৩ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।

আরাঘচি তাঁর পোস্টে দাবি করেন, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড একজন দায়িত্বশীল মার্কিন সিনেটরকে এমন কয়েকটি ঘাঁটি পরিদর্শনে বাধা দিয়েছে, যেগুলো ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি পোস্টে কোনো বিস্তারিত তথ্য বা প্রমাণ দেননি।

অন্যদিকে, CRS-এর প্রতিবেদন মূলত বিমান ও ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিয়ে তৈরি। এটি ইরানের হাতে মার্কিন সামরিক ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ হিসাব হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতো কোনো চূড়ান্ত মূল্যায়ন নয়।

ফলে আরাঘচির ‘প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি’—এই বক্তব্যকে ইরানি পক্ষের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থার প্রকাশিত ৮১টি হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত আকাশযানের হিসাব ইরান যুদ্ধের সামরিক ব্যয়ের পাশাপাশি মার্কিন বিমানবহরের ওপর সংঘাতটির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।