যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থেকে সীমিত ছাড় পাওয়ার পর ইরানে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করেছে ইরাকি এয়ারওয়েজ। বৃহস্পতিবার ইরাকের নাজাফ থেকে তেহরানের উদ্দেশে একটি ফ্লাইট পরিচালনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আকাশ যোগাযোগ আবার চালু হলো।
ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাজাফ থেকে ছেড়ে যাওয়া ইরাকি এয়ারওয়েজের ফ্লাইটটি তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রাথমিকভাবে এই রুটে যাওয়া-আসা উভয়মুখী ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইরাকের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মার্চের শুরুতে ইরাকি এয়ারওয়েজ ইরানে সরাসরি ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে ইরাকি সরকার দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ বজায় রাখার উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সীমিত নিষেধাজ্ঞা-ছাড়ের আবেদন করা হয়। ইরাকি কর্তৃপক্ষ সেই ছাড় পাওয়ার পর ৮ অক্টোবর থেকে ইরানে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর ঘোষণা দেয়।
নাজাফ ও তেহরানের মধ্যে বিমান যোগাযোগ ধর্মীয়, বাণিজ্যিক ও সামাজিক যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নাজাফ ইরাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহর হওয়ায় ইরান থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন সময়ে সেখানে যাতায়াত করেন। একইভাবে ইরাক থেকেও ধর্মীয় ও অন্যান্য কাজে ইরানে যাতায়াত রয়েছে।
ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় দুই দেশের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগও কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে ইরাককে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতি এবং অন্যদিকে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে। সীমিত নিষেধাজ্ঞা-ছাড়ের মাধ্যমে ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ সেই কূটনৈতিক ভারসাম্যেরই একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরাকি এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট অনুমোদনের ভিত্তিতে ইরানের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।