পারমাণবিক প্রস্তুতি নিয়ে ইরানের জরুরি বৈঠক

পারমাণবিক জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করতে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছে দেশটির সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১০ অক্টোবর) ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান হোসেইন সাজেদিনিয়া এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রস্তুতিমূলক মহড়া আয়োজনের ক্ষেত্রে তাঁর সংস্থা সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ইরানে দক্ষ জনবল ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে বৈঠকে কী কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সম্ভাব্য কোন ধরনের পারমাণবিক জরুরি পরিস্থিতিকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে কিংবা মহড়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি রয়েছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি সাজেদিনিয়া।

ইরানের রাজধানী তেহরানে যুদ্ধকালীন সতর্কবার্তা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে সাইরেনযুক্ত কিয়স্ক স্থাপন করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। তবে এসব সতর্কসংকেত ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন সাজেদিনিয়া।

তাঁর এই বক্তব্যে রাজধানীর জরুরি সতর্কবার্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা অন্য কোনো আকস্মিক বিপর্যয়ের সময় সাধারণ মানুষকে দ্রুত সতর্ক করা এবং নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্থাপিত সাইরেনগুলো কার্যকরভাবে কাজ করছে কি না, তা যাচাইয়ের বিস্তারিত তথ্য তিনি দেননি।

সাজেদিনিয়া আরও জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগেই তেহরানের শাহরান এলাকায় এবং আরতেশ বুলেভার্ডে অবস্থিত তেল সংরক্ষণাগারগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর এ বিষয়ে লিখিত সুপারিশও জমা দেওয়া হয়। তবে সতর্কতা দেওয়ার পর সংরক্ষণাগারগুলো সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়িত হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানীর কাছাকাছি জ্বালানি সংরক্ষণাগার থাকলে হামলার ঘটনায় অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ ও পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সে কারণে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার অবস্থান পর্যালোচনা, আগাম সতর্কতা এবং জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা শক্তিশালী করা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পারমাণবিক জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি, যুদ্ধকালীন সতর্কসংকেত এবং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে ইরানি কর্মকর্তার বক্তব্য দেশটির জরুরি ব্যবস্থাপনা সক্ষমতার বিষয়টি সামনে এনেছে।

তবে পারমাণবিক জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক হওয়ার অর্থ এই নয় যে, ইরানে কোনো পারমাণবিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বা তা আসন্ন। কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে মূলত সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং পূর্ববর্তী হামলার অভিজ্ঞতা থেকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।