তুরস্ক থেকে বিদ্যুৎ আমদানির প্রস্তুতি ইরানের

যুদ্ধের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিল্পকারখানার জ্বালানি চাহিদা মেটাতে তুরস্ক থেকে বিদ্যুৎ আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের মাধ্যমে তুরস্ক থেকে বিদ্যুৎ এনে পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পাঞ্চলগুলোতে সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ কোম্পানির প্রধান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ইরানের বিদ্যুৎ খাতের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল্লাহদাদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাগুলোর বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিষেবা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিল্প খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

আল্লাহদাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্মে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে, তা আগের বছরগুলোর তুলনায় ছয় গুণ। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সচল রাখা এবং উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার প্রয়োজন থেকেই এই বাড়তি বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি হয়েছে।

৪ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা অচল

ইরানের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানিগুলোর মালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রায় ৪ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা বিভিন্ন কারণে বর্তমানে অচল রয়েছে বলে জানিয়েছেন আল্লাহদাদ।

এ পরিমাণ উৎপাদনক্ষমতা অচল থাকায় শিল্প খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হয়েছে। তুরস্ক থেকে বিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সগুলোর বিদ্যুতের ঘাটতি সামাল দিতে তা সহায়ক হতে পারে।

তবে আমদানি করা বিদ্যুতের পরিমাণ, সরবরাহ শুরুর নির্দিষ্ট সময় এবং এ ব্যবস্থার আওতায় কোন কোন শিল্পাঞ্চল বিদ্যুৎ পাবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

বিদ্যুৎ সরবরাহে বিকল্প উৎসের দিকে তেহরান

পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও রপ্তানি খাতগুলোর একটি। এ খাতের উৎপাদন ব্যাহত হলে শিল্পকারখানার কার্যক্রমের পাশাপাশি রপ্তানি আয়েও প্রভাব পড়তে পারে। যুদ্ধের কারণে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ক্ষতি এবং উৎপাদনক্ষমতার একটি অংশ অচল হয়ে পড়ায় বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।

তুরস্কের সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য অবকাঠামো প্রস্তুত করার ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, শিল্প খাতের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে আন্তদেশীয় বিদ্যুৎ সংযোগকে কাজে লাগাতে চাইছে ইরান। তবে এই উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক করতে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা নির্ভর করবে সরবরাহের পরিমাণ, অবকাঠামোর সক্ষমতা ও ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনরায় সচল করার অগ্রগতির ওপর।