ইরান ও ইরানের জনগণই যুক্তরাষ্ট্রের মূল সমস্যা: আজিজি

ইরান ও দেশটির জনগণের প্রতিই যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মূল সমস্যা বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে তিনি অভিযোগ করেছেন, যে দেশের ইতিহাস আদি জনগোষ্ঠীকে হত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এবং যে দেশ ঔপনিবেশিকতা ও রক্তপাত অব্যাহত রেখেছে, সেই যুক্তরাষ্ট্রই এখন প্রাচীন পারস্যের আকেমেনীয় সাম্রাজ্যকে অপরাধী হিসেবে তুলে ধরছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আজিজি লেখেন, যে দেশের ইতিহাসের সূচনা আদি জনগোষ্ঠীর হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে, সেই দেশ কখনোই ঔপনিবেশিকতা ও রক্তপাত থেকে বিরত থাকেনি। অথচ তারাই এখন বিশ্বের প্রথম মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের রচয়িতা আকেমেনীয়দের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ তুলছে। আজিজি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের পেছনে ইরান ও ইরানের জনগণের প্রতি মৌলিক শত্রুতা রয়েছে।

প্রাচীন পারস্যের আকেমেনীয় সাম্রাজ্যের শাসক সাইরাস দ্য গ্রেটের সঙ্গে সাইরাস সিলিন্ডারের সম্পর্ক রয়েছে। প্রাচীন এই নিদর্শনকে বিশ্বের প্রথম মানবাধিকার ঘোষণাপত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আজিজি তার বক্তব্যে এই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্যের মূল কথা, নিজেদের ইতিহাসে আদি জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা ও ঔপনিবেশিকতার অধ্যায় থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রাচীন সভ্যতাকে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করছে।

আজিজির এই প্রতিক্রিয়ার আগে গ্রিস সফরে পশ্চিমা সভ্যতা নিয়ে মার্কো রুবিওর বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। রুবিওর বক্তব্যে প্রাচীন গ্রিসের ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের যোগসূত্র তুলে ধরার সমালোচনা করে বাঘাই অভিযোগ করেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিহাসের বেছে নেওয়া একটি ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন। তার মতে, এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে শক্তি প্রয়োগকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

বাঘাই আরও বলেন, রুবিওর ব্যাখ্যায় ক্ষমতা ও জাতীয় ইচ্ছাশক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও প্রাচীন গ্রিক ঐতিহ্যে সাম্রাজ্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ঔদ্ধত্য ও আগ্রাসনের যে সমালোচনা রয়েছে, তা উপেক্ষা করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের এই বক্তব্যের পর আজিজিও রুবিওর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও ইরানের প্রতি দেশটির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি