দাদাগিরি ও অন্যায় আচরণের কাছে ইরান মাথা নত করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, জাতীয় মর্যাদা ও শক্তি প্রতিষ্ঠায় বিজ্ঞান, জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ অপরিহার্য। বড় বড় বক্তব্য দিলেই চলবে না, বাস্তবে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ইরানের কারাজ শহরে বীজ ও উদ্ভিদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে ২০২৬-২০২৭ কৃষিবর্ষের সূচনা উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, অন্যায় আচরণ ও দাদাগিরির কাছে নতি স্বীকার করা যাবে না। তবে বিজ্ঞান ও জ্ঞানের বিকাশ ছাড়া জাতীয় মর্যাদা ও শক্তি অর্জনও সম্ভব নয়। অজ্ঞতা নিয়ে বড় বড় কথা বলার কোনো অর্থ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের অর্থনীতি ও জনগণের জীবনযাত্রা নিয়ে দেশটির প্রতিপক্ষদের নেতিবাচক পূর্বাভাসের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রেসিডেন্ট। তার ভাষ্য, কিছু পক্ষ সতর্ক করেছিল, নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া না হলে মে মাসের মধ্যে দেশটি গুরুতর সংকট ও অচলাবস্থায় পড়বে। কিন্তু সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপকদের ওপর আস্থা রেখে বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করেছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, বাধা তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু ইরান দৃঢ় অবস্থানে ছিল এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুলে গেছে। তার মতে, অভিন্ন লক্ষ্য ও সম্মিলিত সংকল্প নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারলে নিষেধাজ্ঞার বাধাও অতিক্রম করা সম্ভব।
দেশের অর্থনৈতিক ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে প্রাকৃতিক সম্পদের আরও কার্যকর ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি। বিশেষ করে পানি ও মাটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় উন্নতি আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে পেজেশকিয়ান বলেন, কৃষিতে দক্ষতা বাড়াতে হবে। এসব ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বিদ্যমান সক্ষমতা চিহ্নিত করা, বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান কাজে লাগানো এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফল অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, প্রথমেই স্বীকার করতে হবে যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। এরপর অন্য দেশগুলো কীভাবে ভালো ফল অর্জন করেছে, তা বিশ্লেষণ করে নিজেদের দুর্বলতা কাটানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি হতে হবে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, যুক্তি ও বিবেচনাবোধ। কোনো সঠিক ও সত্যনিষ্ঠ যুক্তি প্রত্যাখ্যান করাকে তিনি সবচেয়ে বড় ধরনের অবিচার হিসেবে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে জাতীয় মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক নীতি, প্রযুক্তির ব্যবহার ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকে ইরানের অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি