২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাইকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে পিল্লাইয়ের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছে নেতানিয়াহুর কার্যালয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে বলা হয়, নোবেল কমিটি ‘নৈতিক দিকনির্দেশনা হারিয়েছে’। পিল্লাইকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে কার্যালয়টি অভিযোগ করে, তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘রক্তের অপবাদ’ ছড়িয়েছেন। এগুলো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অভিযোগ; স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে এগুলোকে বিবেচনা করা উচিত নয়।
নাভি পিল্লাই জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২৫ সালে প্রকাশিত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড গণহত্যার সংজ্ঞার আওতায় পড়ে। ইসরায়েল ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
উল্লেখ্য, কমিশনটি জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত সংস্থা। এর প্রতিবেদনকে পুরো জাতিসংঘের সব সদস্যরাষ্ট্রের অভিন্ন অবস্থান হিসেবে দেখা যায় না।
করিম খানকে ঘিরে অভিযোগ
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিবৃতিতে আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, পিল্লাইয়ের তদন্তের ফলাফল ব্যবহার করে খান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ভিত্তিহীন মামলা’ তৈরি করেছেন। খানের বিরুদ্ধে আইসিসির কর্মীদের করা যৌন অসদাচরণসংক্রান্ত অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পৃথকভাবে প্রমাণিত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার অবস্থা বিবেচনা করা জরুরি। অভিযোগ উত্থাপন নিজে থেকেই অপরাধ প্রমাণ করে না।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি পিল্লাইকে আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দিয়েছে। বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় অধিকারকর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াই, রুয়ান্ডার গণহত্যাবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে কাজ তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য অংশ।
নোবেল কমিটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থা যখন চাপের মুখে, তখন আইনের শাসন এবং জবাবদিহির পক্ষে কাজ করা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পিল্লাইকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। আদালতটি এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আদালতের পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে; অন্যদিকে আইসিসি বলেছে, চাপের মুখেও তারা বিচারিক দায়িত্ব পালন করবে।
নেতানিয়াহুর বক্তব্য ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, গাজা যুদ্ধের জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ নিয়ে চলমান বিরোধকে আরও সামনে এনেছে। তবে পিল্লাইয়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অভিযোগ এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশনের তদন্তের ফলাফল—দুটি বিষয়কে আলাদা করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স, আল জাজিরা ও দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
মানসিক স্বাস্থ্যকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী
ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি আটক
ভারতে মারা গেলেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন
ইয়েমেনে এক দিনে ২৭৫০ হামলা, ১ হাজার ৪০০ হুথি যোদ্ধা হতাহতের দাবি