ইরানের সিস্তান-বালুচিস্তানে ২৪ ঘণ্টায় ৫ নিরাপত্তাকর্মী নিহত

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চারটি সশস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচ সেনা ও পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন হালভাশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (০৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত নিকশাহর, নুসরাতাবাদ, ফারিয়াব ও জালেক এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। সব মিলিয়ে নিহত ও আহত নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা ১২ ছাড়িয়েছে। তবে কয়েকজন হতাহতকে এখনো শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় চূড়ান্ত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংগঠনটি।

হালভাশের তথ্য অনুযায়ী, নিকশাহর, নুসরাতাবাদ ও জালেকের হামলার দায় স্বীকার করেছে পিপলস ফাইটার্স ফ্রন্ট। ২০২৫ সালের শেষ দিকে গঠিত এই জোটে জইশ আল-আদলসহ কয়েকটি বালুচ সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। তবে ফারিয়াবে পুলিশ কর্মকর্তা মেহদি জামশিদিকে হত্যার ঘটনায় এই জোট দায় স্বীকার করেনি।

নিকশাহর ও নুসরাতাবাদে প্রাণঘাতী হামলা

নিকশাহর এলাকায় সেনাসদস্য বহনকারী দুটি গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে মোহাম্মদরেজা ওকাতি নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হালভাশ। আহতদের মধ্যে আলি নাজাফি, মোহাম্মদরেজা হোসেইনি, মোজতবা মির এবং কেইখা ও ইরানমানেশ পদবির আরও দুজন রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আহতদের নিকশাহরের মোহাম্মদ রাসুলুল্লাহ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্য কয়েকজন আহতকে হেলিকপ্টারে করে চাবাহার, কোনারাক ও ইরানশাহরের চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তবে তাঁদের সঠিক সংখ্যা ও পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি হালভাশ।

ইরানের সেনাবাহিনীও বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) ওকাতির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ৮৮তম সাঁজোয়া ডিভিশনের সদস্যরা পালাবদলের দায়িত্ব পালন করতে যাওয়ার সময় তাঁদের ওপর গুলি চালানো হয়। তবে সেনাবাহিনী তিনজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে, যা হালভাশের দেওয়া পাঁচ আহতের সংখ্যার সঙ্গে মেলে না।

এদিকে জাহেদানের কাছে নুসরাতাবাদ এলাকায় লাখশাক সড়কে পুলিশের কমান্ডো টহলদলের ওপর হামলায় অন্তত তিন নিরাপত্তাকর্মী নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হালভাশ। নিহতদের মধ্যে ওয়াহিদ এনায়াত ও আব্বাস আগায়ির নাম উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

ইরানি পুলিশ এর আগে শুধু এনায়াতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। পুলিশের দাবি, হামলাকারীদের লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি চালানো হলে কয়েকজন হামলাকারী আহত অবস্থায় পালিয়ে যায়।

ফারিয়াবে পুলিশ কর্মকর্তা নিহত

ফারিয়াব এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়িতে করে যাওয়ার সময় গুলিতে নিহত হন মেজর মেহদি জামশিদি। হালভাশ জানিয়েছে, তাঁকে সাতটি গুলি করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, গত জুনে পাশমুকি গ্রামে নারীসহ কয়েকজন বিক্ষোভকারীর সঙ্গে সংঘর্ষের সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে জামশিদিও ছিলেন বলে খবর রয়েছে। তবে তাঁর হত্যার দায় পিপলস ফাইটার্স ফ্রন্ট স্বীকার করেনি।

জালেকের পুলিশ সদর দপ্তরে হামলা

চতুর্থ হামলাটি হয় বুধবার সন্ধ্যায় গোলশান কাউন্টির প্রশাসনিক কেন্দ্র জালেকের পুলিশ কমান্ড সদর দপ্তরে। হালভাশের তথ্য অনুযায়ী, পিপলস ফাইটার্স ফ্রন্ট জানিয়েছে, তাদের সদস্যরা হামলায় মাইন, রকেটচালিত গ্রেনেডসহ বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহার করেছেন। তাদের দাবি, হামলায় ছয় পুলিশ সদস্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।

হালভাশের হাতে আসা ভিডিওতে পুলিশ স্থাপনার আশপাশে ব্যাপক গুলিবর্ষণ এবং অন্তত একটি সহায়ক যানবাহন লক্ষ্য করে হামলার দৃশ্য দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় নিহত ও আহতদের চূড়ান্ত সংখ্যা কিংবা পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংগঠনটি। ইরানওয়্যার সংবাদমাধ্যমও পুলিশ স্থাপনাটির আশপাশে বিস্ফোরণ ও গুলির খবর জানিয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়ছে সহিংসতা

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক হামলার মধ্যেই সর্বশেষ ঘটনাগুলো ঘটল। চলতি সপ্তাহের শুরুতে বাম্পুর এলাকায় সেনাবাহিনীর দুটি গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এর আগের সপ্তাহে জাহেদানের কাছে সড়কপাশে হামলা এবং রাস্কসহ কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

সাম্প্রতিক এসব হামলায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের বিবৃতি ও হালভাশের প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে একাধিকবার পার্থক্য দেখা গেছে। সর্বশেষ চারটি হামলার ক্ষেত্রেও হতাহতের সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। বিশেষ করে আহতদের কয়েকজনকে হামলাস্থল থেকে দূরের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হওয়ায় তাঁদের পরিচয় ও অবস্থা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল