রিয়াদে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা

সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিক ও সরকারি কর্মীদের জন্য ভ্রমণসংক্রান্ত সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন। রিয়াদ বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে মার্কিন নাগরিকদের। একই সঙ্গে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিমানবন্দর ব্যবহার করতে মার্কিন সরকারি কর্মীদের বিশেষ অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে তারা অবগত। এ পরিস্থিতিতে সব মার্কিন নাগরিককে বিমানবন্দরটি এবং এর আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার জোরালো পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবে কর্মরত মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও জেদ্দা ও দাম্মামের বিমানবন্দর ব্যবহার করতে বিশেষ অনুমোদন নিতে হবে। দেশটির সব বড় বিমানবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও চরম সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন মিশন।

সতর্কবার্তায় সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং ভ্রমণসূচিতে বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।

যাত্রীদের নিজ নিজ বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে ফ্লাইট ছাড়ার সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনাল লক্ষ্য করে চালানো এ হামলায় বিভিন্ন দেশের নাগরিক হতাহত হয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়ার একজন পাইলটসহ তিনজন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। বুধবার কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরেকটি হামলায় সুদানের এক নাগরিক নিহত হন। তার আগের দিন আসির প্রদেশের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই নারী নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়।

এসব হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন পক্ষ।

সৌদি আরবে মার্কিন সরকারি কর্মীদের চলাচলের ওপরও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ইয়েমেন সীমান্তের ২০ মাইলের মধ্যে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া জিজান, আসির ও নাজরান প্রদেশ এবং কাতিফ, ইয়ানবু ও তাইফ শহরে ভ্রমণের জন্য বিশেষ অনুমোদন প্রয়োজন বলে সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ধারাবাহিক হামলা এবং আকাশপথে নিরাপত্তাঝুঁকির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এ সতর্কতা এসেছে। এতে দেশটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।