শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু শক্তি ব্যবহার নিশ্চিতে ব্যর্থ আইএইএ: ইসলামি

শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে সদস্যদেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব পালনে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার নীতি অনুসরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে দেওয়া বক্তব্যে ইসলামি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সব দেশের অধিকার। আন্তর্জাতিক আইন ও আইএইএর নিজস্ব বিধিবিধান অনুযায়ী, এ প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহার নিশ্চিত করতে সদস্যদেশগুলোকে উৎসাহ দেওয়া, সহযোগিতা করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব সংস্থাটির। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে আইএইএ বছরের পর বছর ধরে সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেনি।

ইরানের প্রেসিডেন্টের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ইসলামি বলেন, পরমাণু ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলের দ্বিমুখী অবস্থান ওই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, বোমা রয়েছে ইসরায়েলের কাছে, অথচ পরিদর্শকেরা রয়েছেন ইরানে। ইসলামির মতে, এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরমাণু নীতির অসংগতিগুলো সামনে এনেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, দ্বৈতনীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে জাতিসংঘ সনদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা ও লঙ্ঘনের প্রবণতা বেড়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরমাণু প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় যে নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তাতে সব দেশের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হচ্ছে না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইসলামি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতি ও অতিরিক্ত দাবির কারণে এই কাঠামো অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন নিজের স্বার্থ পূরণে ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা থেকে সরে এসেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এভাবে নিজেদের পছন্দের একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে চাইছে।

ইসলামি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহারের অধিকার কোনো নির্দিষ্ট দেশের একচেটিয়া সম্পদ নয়; বরং এটি সব জাতির জন্য প্রযোজ্য। এ অধিকার বাস্তবায়নে আইএইএর দায়িত্ব হলো প্রযুক্তিতে ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করা। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে সংস্থাটির ভূমিকা সেই দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের কারণে আইএইএ ইরানের পরমাণু কর্মসূচির অগ্রগতি ধীর করার লক্ষ্যে কাজ করছে। তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক পরমাণু ব্যবস্থায় সমান নীতি প্রয়োগ, শান্তিপূর্ণ প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার এবং সংস্থাটির নিরপেক্ষতা নিয়ে তেহরানের অসন্তোষ উঠে এসেছে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি