কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তায় ইরান-রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও উন্নত প্রযুক্তিতে যৌথ বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ খতিয়ে দেখছে ইরান ও রাশিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। মস্কোয় দুই দেশের প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় ফোরামে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের পণ্য ও সেবার বাজার সম্প্রসারণ এবং যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মস্কোয় দ্বিতীয় গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরামের পার্শ্ব আয়োজন হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিশেষায়িত ব্যবসায়িক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গোরকি পার্কের মচতা কমপ্লেক্সে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকগুলোতে উন্নত প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।

অনুষ্ঠানে ইরানের প্রযুক্তিবিষয়ক অ্যাটাশে রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালির একটি বার্তা পড়ে শোনান। এতে জালালি ডিজিটাল খাতে দুই দেশের বিনিময় বাড়াতে কৌশলগত সহযোগিতা এবং সরকারি সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অবকাঠামোগত সরঞ্জাম স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে ইরানি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে।

জালালির বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ভরযোগ্য ইরানি অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে রুশ প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবার বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। এ ধরনের বিনিয়োগে ইরান সরকার সমর্থন দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। ফলে দুই দেশের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা শুধু প্রযুক্তি বিনিময়ে সীমাবদ্ধ না রেখে বিনিয়োগ ও বাজার সম্প্রসারণের দিকেও নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

রাশিয়ার ডিজিটাল উন্নয়ন, যোগাযোগ ও গণমাধ্যমবিষয়ক উপমন্ত্রীও ফোরামে ইরানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণকে তথ্য বিনিময় এবং নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বিশেষভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে যৌথ অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং দ্বিপক্ষীয় প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে রাশিয়ার আগ্রহের কথা জানান।

বৈঠকে দুই দেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি তুলে ধরার পাশাপাশি বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করে। আলোচনায় প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ বিনিয়োগ এবং পণ্য ও সেবার বাজার সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তবে কোন কোন প্রকল্পে কত অর্থ বিনিয়োগ করা হবে বা নির্দিষ্ট কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল রাশিয়া সফর করেছিল। ওই সফরের পর দুই দেশের মধ্যে ২০ দফার একটি আন্তসরকার সমঝোতা স্মারক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। মস্কোর এবারের ফোরামকে সেই সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় উন্নত প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ, অংশীদারত্ব ও বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাইয়ের উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি