ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশটির আইনি উদ্যোগে যোগ দিচ্ছেন ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বিদেশি আইনজীবীরা। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেও কয়েকজন আইনজীবী এ উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। তাঁর দাবি, ইতোমধ্যে কয়েকটি বিদেশি আইনজীবী দল হামলার ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে নিজ নিজ দেশের আদালতে মামলাও করেছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে গারিবাবাদি বলেন, মিনাবের বিদ্যালয়ে হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইনজীবীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। তিনি এই উদ্যোগকে বিশ্বব্যাপী সংহতির গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বিভিন্ন দেশের আদালতে আরও মামলা দায়েরের আহ্বান জানান।
গারিবাবাদি বলেন, একটি বা দুটি মামলা দায়ের করাই যথেষ্ট নয়; বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা করা প্রয়োজন। যারা এই ঘটনার দায় নির্ধারণ ও বিচার নিশ্চিত করতে আইনি উদ্যোগ নিতে চান, তাঁদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় প্রমাণের জন্য ইরান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। দেশটির নাগরিক সমাজের কাছ থেকেও প্রমাণ সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, এসব মামলার অগ্রগতিতে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সরবরাহ করতে প্রস্তুত তেহরান।
ইরানের এই উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় মিনাবের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬৮ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী, ক্রীড়াবিদ, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা ছিলেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর দিন সংঘটিত এই হামলাকে গারিবাবাদি দেশটির সংঘটিত সবচেয়ে বিস্ময়কর ও নৃশংস অপরাধগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, শিশুদের উপস্থিতি থাকা একটি বিদ্যালয়কে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, শিশু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও বেসামরিক অবকাঠামো সামরিক হামলা থেকে সুরক্ষিত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন।
বিচারের জন্য ইরানের বহুমুখী আইনি উদ্যোগ
গারিবাবাদি জানান, বিদেশি আইনজীবীদের উদ্যোগের পাশাপাশি ইরান নিজেও একাধিক পর্যায়ে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে। মিনাবের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইরানের বিচার বিভাগ ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জারি করেছে বলে তিনি জানান। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মামলার আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদেশের আদালতগুলোতেও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়বদ্ধ করতে হবে এবং এর দায় এড়ানোর সুযোগ দেওয়া যাবে না।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি উত্থাপন করেছে তেহরান। গারিবাবাদি জানান, মিনাবের হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যাতে অপরাধটির নথি আন্তর্জাতিক পরিসরে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মিনাবের বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইনি ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে তেহরান। গারিবাবাদির অভিযোগ, ৪০ দিনের যুদ্ধে মিনাবের বিদ্যালয়ে হামলার পাশাপাশি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে হত্যা এবং বেসামরিক অবকাঠামোয় ব্যাপক হামলার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই ইরানের চলমান আইনি উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানান তিনি। সূত্র: প্রেস টিভি
শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু শক্তি ব্যবহার নিশ্চিতে ব্যর্থ আইএইএ: ইসলামি
ইরানের কাছে পরাজয়ের অপমানে ইরাক ছেড়েছে মার্কিন সেনারা: রেজাই
সামরিক হামলায় পরিবেশ ধ্বংসের জন্য আগ্রাসীদের জবাবদিহি চান আরাঘচি
‘ইরানের পারমাণবিক নীতির পক্ষে সমর্থন বাড়ছে’
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ’কঠোর জবাব’ দেওয়ার অঙ্গীকার সৌদি জোটের