রক্তপিপাসু শত্রুর বিরুদ্ধে অবিচল ইরান: ফাতেমেহ মোহাজেরানি

রক্তপিপাসু শত্রুদের বিরুদ্ধে ইরান অবিচলভাবে দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অপরাধ বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে হবে বিভিন্ন মাধ্যম ও মঞ্চ ব্যবহার করে। বিশেষ করে শিল্প-সাহিত্যের মাধ্যমে যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং ইরানের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া দুর্ভোগের কাহিনি তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী বোমা হামলা নিয়ে লেখা ‘খুনাবেহ মিনাব’ বা ‘মিনাবের রক্তাক্ত জলরাশি’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মোহাজেরানি। তিনি বলেন, চলচ্চিত্র, নাটক, উপন্যাস, কবিতা ও চিত্রকলার মতো মাধ্যম ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের কর্মকাণ্ডের চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা সম্ভব।

মোহাজেরানি বলেন, চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সময় মানুষের যে দুর্ভোগ ও ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে হয়েছে, সেসব ঘটনা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে শিল্পকে এগিয়ে আসতে হবে। তার ভাষায়, শোকাহত হলেও অবিচল ইরান সবচেয়ে রক্তপিপাসু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এ মন্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করেন।

ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গকারীদের স্মরণ করে সরকারের মুখপাত্র বলেন, গত ৪৭ বছরে দেশটি বহু শহিদের আত্মত্যাগ প্রত্যক্ষ করেছে। ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট সময়পর্বেই দুই লাখের বেশি মানুষ শহিদ হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, ইরানের জনগণ আত্মত্যাগের সংস্কৃতি এবং শহিদদের স্মৃতি ধারণের সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত।

মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবাহ স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রসঙ্গ তুলে মোহাজেরানি বলেন, এই ট্র্যাজেডি প্রত্যেক মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে। স্কুলটির ভয়াবহ দৃশ্য এবং প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলোর কষ্টের কথা ভাষায় প্রকাশ করা তার নিজের পক্ষেও কঠিন বলে জানান তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তার উপলব্ধি হয়েছে, ইরানের মানুষের ওপর শত্রুপক্ষের কর্মকাণ্ডের কাহিনি তুলে ধরতে শিল্পকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে।

তিনি বলেন, শিল্প মানুষের অন্ধকার দিক এবং মহত্ত্ব, দুই-ই জীবন্তভাবে তুলে ধরতে পারে। এর মাধ্যমে মিনাবের মতো ঘটনা যেন আবার না ঘটে, সে বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব। তার মতে, যুদ্ধের শিকার শিশুদের দুর্ভোগ ও পরিবারগুলোর শোক বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে শিল্পের শক্তিকে কাজে লাগানো প্রয়োজন।

‘খুনাবেহ মিনাব’ বইটির লেখকের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান মোহাজেরানি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বইটি সম্পন্ন করতে লেখক প্রায় ৪০ দিন মিনাবে অবস্থান করেছেন এবং দিন-রাত শহিদদের কবরস্থানে সময় কাটিয়েছেন। ইরানের শিশুদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের যন্ত্রণা যথাযথভাবে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি