'ওয়াশিংটন চায় না মুসলিম বিশ্ব আরও শক্তিশালী হোক'

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মুসলিম বিশ্বের জনগণকে আরও সক্ষম ও সমৃদ্ধ হতে দিতে চায় না বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী বালালি। তার দাবি, প্রাচ্যের সম্পদ লুট করা এবং নিজেদের স্বার্থ হাসিল করাই ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে নতুন ইসলামী সভ্যতার উত্থান ঠেকাতেও তারা তৎপর বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বালালি। তিনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মহাকাশ বাহিনীর কমান্ডারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বালালি বলেন, সভ্যতার বিকাশের কেন্দ্র প্রাচ্য, অথচ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিজস্ব কোনো সভ্যতা নেই। তার ভাষ্য, প্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বে নতুন ইসলামী সভ্যতার উত্থান ঠেকাতে চায় এই দুই দেশ।

প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বালালি বলেন, ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তার অভিযোগ, মুসলিম বিশ্বের জনগণ আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক, তা পশ্চিমা শক্তিগুলো চায় না। বরং প্রাচ্যের সম্পদ ও সম্পদভান্ডার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করতেই তারা আগ্রহী।

পশ্চিমা শক্তিগুলোর ঐতিহাসিক ভূমিকার সমালোচনা করে বালালি বলেন, আমেরিকা মহাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং আফ্রিকার মানুষের ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পশ্চিমা শক্তিগুলো নিজেদের শক্তি গড়ে তুলেছে। এ প্রসঙ্গে ফ্রান্স ও বেলজিয়ামসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করেন তিনি। তার অভিযোগ, পশ্চিমা শক্তিগুলো শান্তি ও ন্যায়বিচারের কথা বললেও তাদের ইতিহাসে অপরাধের বহু নজির রয়েছে।

বালালি আরও বলেন, ইসলামী সভ্যতার ভিত্তিতে নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করছে পশ্চিমা শক্তিগুলো। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের পক্ষে এই অগ্রযাত্রা ঠেকানো সম্ভব হবে না বলে দাবি করেন তিনি।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারাবাহিক হুমকির প্রেক্ষাপটে বালালির এসব মন্তব্য এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১ এপ্রিল ট্রাম্প ইরানে বোমাবর্ষণের হুমকি দিয়ে দেশটিকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এরপর ৭ এপ্রিল তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান তার দাবি মেনে না নিলে একটি পুরো সভ্যতা সেদিন রাতেই ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকিসহ তার এসব বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি