ইরানের সেনাবাহিনীর নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চল এবং ওমান সাগর ও আরব সাগরজুড়ে নতুন বিন্যাসে অভিযান পরিচালনাকারী নৌ ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখে নিয়ন্ত্রিত এলাকা অতিক্রমের চেষ্টার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আগুন ধরে যাওয়া একটি ট্যাংকার শনাক্ত করার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ইরানের নৌবাহিনী জানায়, তাদের নজরদারি দল স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ট্যাংকারটির অবস্থান শনাক্ত করে। জাহাজটি নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছিল। এ সময় সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আগুন ধরে যায় বলে নৌবাহিনীর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নৌবাহিনী আরও জানিয়েছে, নতুন বিন্যাসে মোতায়েন করা ইউনিটগুলোকে ওই অঞ্চলে শত্রুপক্ষের তৎপরতা এবং সামুদ্রিক যান চলাচলের ওপর সার্বক্ষণিক ও তাৎক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চল থেকে ওমান সাগর ও আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় এ নজরদারি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
একই সঙ্গে সব জাহাজকে তাদের বৈদ্যুতিক ও নেভিগেশন-সংক্রান্ত সরঞ্জাম বন্ধ না রাখার এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ইরানের নৌবাহিনী। নিরাপদে সমুদ্রপথ অতিক্রম নিশ্চিত করতে জাহাজগুলোকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেও চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এর আগে সোমবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতাকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওই বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, সতর্কতা উপেক্ষা করে নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রাখার পর সোমবার সকালে হরমুজ প্রণালিতে তৃতীয় একটি অপরিশোধিত তেলবাহী সুপারট্যাংকারে আঘাত লাগে এবং সেটিতে আগুন ধরে যায়।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের প্রথম দিক থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে তেহরান। এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইরানের অবস্থানের কারণে কৌশলগত এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। চলমান যুদ্ধ ও নৌযান চলাচলে বিধিনিষেধের মধ্যে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজের যাতায়াত এক অঙ্কের সংখ্যায় নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দাবিগুলো পূরণ না করা এবং ইরানের আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না। সূত্র: প্রেস টিভি