ইরানের অর্থনীতি দুই সপ্তাহের মধ্যে ধসে পড়বে বলে যুক্তরাষ্ট্র যে দাবি করেছিল, তা বাস্তবে পরিণত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন তেহরানের অস্থায়ী জুমার নামাজের ইমাম আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আহমদ খাতামি। তিনি বলেছেন, শুধু ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়া থেকেই রক্ষা পায়নি, বরং আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও টেকসই হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তেহরানে জুমার নামাজের খুতবায় এসব কথা বলেন খাতামি। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছিলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে সে রকম কিছু ঘটেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। বরং ইরানের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে দাবি করেন এই ধর্মীয় নেতা।
খাতামি বলেন, বিষয়টি শুধু ইরানের নিজস্ব মূল্যায়ন নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রধানও স্বীকার করেছেন যে, গত এক মাসে ইরান পরিস্থিতি যথাসম্ভব ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী বছর অর্থনৈতিক দিক থেকে ইরানি জাতির জন্য উজ্জ্বল হবে বলেও বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রধান মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানের জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন খাতামি। তাঁর ভাষ্য, ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়বে, মার্কিন কর্মকর্তাদের এমন পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও তা বাস্তবায়িত হবে না।
খুতবায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তেহরানের অস্থায়ী জুমার নামাজের ইমাম। তিনি বলেন, বর্তমানে ট্রাম্প তাঁর দলের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। কিন্তু এ উদ্দেশ্যে তিনি যেখানেই গেছেন, সেখানেই জনসাধারণের প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন। এমনকি একটি ভাষণ দেওয়ার সময় তাঁকে পাঁচবার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও দাবি করেন খাতামি।
এই ঘটনাকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষের প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। খাতামির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ট্রাম্প বিরোধিতার মুখে রয়েছেন এবং তাঁর জনপ্রিয়তার হার ব্যাপকভাবে কমে ৪০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
এ ছাড়া ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরে খাতামি বলেন, দেশটির বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে এমন এক শিক্ষা দিয়েছে, যা সহজে ভুলে যাওয়ার নয়। তাঁর দাবি, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তির কারণে মার্কিন নৌবহর ইরানের ভূখণ্ড থেকে কয়েক শ কিলোমিটার দূরের অবস্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের শক্তিমত্তার প্রকাশ হিসেবেও বিষয়টিকে তুলে ধরেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের মুখে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতা এবং দেশটির জনগণের প্রতিরোধের প্রশংসা করেন খাতামি। তিনি ইরানি বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জনগণের দৃঢ় অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন।
খাতামি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়বে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা যে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়িত হয়নি এবং তাঁর মতে, ভবিষ্যতেও তা বাস্তবায়িত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি